Zebra Finch পাখির ভাষা: AI যেভাবে ডাকের অর্থ ও যোগাযোগের ধরন বুঝতে সাহায্য করছে - Tech Tips Desk – বাংলা প্রযুক্তি সংবাদ, মোবাইল রিভিউ ও টিপস
মানুষের কাছে পাখির ডাক অনেক সময় একই ধরনের কিচিরমিচির বলে মনে হয়। ভোরের শব্দ, সঙ্গীকে ডাকা, বিপদের সতর্কতা কিংবা ছানার খাবার চাওয়া—সবই যেন পরিচিত কয়েকটি সুরের ভিন্ন রূপ। কিন্তু পাখির দৃষ্টিকোণ থেকে এই শব্দগুলো মোটেও এক নয়। কোথায় অন্য পাখি আছে, কে ডাকছে, পরিস্থিতি নিরাপদ কি না, সঙ্গী কাছে আছে কি না—একটি ছোট ডাকও এমন একাধিক তথ্য বহন করতে পারে।
এই জটিল যোগাযোগব্যবস্থা বোঝার কাজে নতুন গতি এনেছে Artificial Intelligence বা AI। তবে এখানে AI কোনো পাখির ডাক শুনে মানুষের ভাষায় সরাসরি অনুবাদ করে দিচ্ছে—বিষয়টি এমন নয়। বরং বহু বছরের আচরণগত পর্যবেক্ষণ, হাজারো শব্দের রেকর্ড, ধ্বনির সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য এবং নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার ফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে Machine Learning ব্যবহার করা হচ্ছে। মানুষের কানে কাছাকাছি শোনা দুটি ডাককে যন্ত্র ভিন্নভাবে শনাক্ত করতে পারে; আবার একেবারে আলাদা শোনানো দুটি ডাক পাখির কাছে একই সামাজিক অর্থের অংশ কি না, সেটিও আচরণগত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সম্ভব হচ্ছে।

এই গবেষণার সাম্প্রতিক আলোচিত উদাহরণ Zebra Finch। ছোট আকারের, দলবদ্ধ এবং অত্যন্ত স্বরপ্রবণ এই গানের পাখির যোগাযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন University of California, Berkeley-এর গবেষক Dr. Julie E. Elie এবং তাঁর সহকর্মীরা। তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, Zebra Finch কেবল শব্দের গঠন শুনে ডাক আলাদা করে না; ডাকটি কোন সামাজিক পরিস্থিতি বা কাজের সঙ্গে যুক্ত, সেই অর্থগত সম্পর্কও পাখির উপলব্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ Dr. Julie E. Elie ২০২৬ সালের Coller Dolittle Prize for Two-Way Interspecies Communication পেয়েছেন। পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ লাখ মার্কিন ডলার। তবে এই অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক অর্থমূল্য নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, গবেষকেরা মানুষের বানানো শ্রেণিবিন্যাস শুধু কম্পিউটারের ফল দিয়ে গ্রহণ করেননি; পরীক্ষার মাধ্যমে পাখিদের প্রতিক্রিয়াও যাচাই করেছেন। ফলে গবেষণাটি প্রাণী যোগাযোগ বোঝার ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহ, AI-নির্ভর বিশ্লেষণ এবং আচরণগত প্রমাণ—এই তিনটি স্তরকে এক জায়গায় এনেছে।
কেন Zebra Finch গবেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ
Zebra Finch-এর বৈজ্ঞানিক নাম Taeniopygia guttata। অস্ট্রেলিয়ার শুষ্ক ও আধা-শুষ্ক অঞ্চলের এই পাখি সাধারণত দলবদ্ধভাবে থাকে। সামাজিক জীবন, জোড়ার বন্ধন এবং একে অপরের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা রাখার জন্য তাদের নিয়মিত যোগাযোগ প্রয়োজন হয়। ফলে দিনের বিভিন্ন সময়ে তারা বিপুলসংখ্যক ডাক আদান-প্রদান করে।
পাখিটির আরেকটি বৈশিষ্ট্য গবেষকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। কম বয়সী পুরুষ Zebra Finch বড় পুরুষ পাখির গান শুনে নিজের মিলনসংক্রান্ত গান শেখে। মানুষের ভাষা শেখার সঙ্গে এটি এক নয়, কিন্তু শোনা, অনুকরণ, অনুশীলন এবং পরিণত ধ্বনি তৈরির কিছু ধাপের কারণে পাখিটি বহু বছর ধরে vocal learning ও auditory perception গবেষণার পরিচিত মডেল।
তবে গান এবং দৈনন্দিন ডাক এক বিষয় নয়। সাধারণভাবে পুরুষ Zebra Finch-এর শেখা গান সঙ্গী আকর্ষণ ও সামাজিক আচরণের বিশেষ প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে পুরুষ ও স্ত্রী—দুই ধরনের পাখিই বিভিন্ন call তৈরি করে। কাছাকাছি অবস্থান জানানো, দূরে থাকা সঙ্গীকে খোঁজা, বিপদের সংকেত দেওয়া, বিরক্তি বা আগ্রাসন প্রকাশ, ছানার ক্ষুধা জানানো এবং বাসায় সমন্বয় রাখার মতো কাজে এসব ডাক ব্যবহৃত হতে পারে।
আগের অনেক গবেষণায় পাখিটির গানের দিকে তুলনামূলক বেশি নজর দেওয়া হয়েছিল। Dr. Julie E. Elie-এর কাজের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি দৈনন্দিন সামাজিক ডাককে গবেষণার কেন্দ্রে এনেছেন। তাঁর প্রশ্নটি ছিল সহজ, কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে কঠিন: মানুষ আচরণ দেখে যে ডাকগুলোকে আলাদা নাম দিয়েছে, পাখিরাও কি সেগুলোকে সত্যিই আলাদা শ্রেণি হিসেবে উপলব্ধি করে?
দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ থেকে ১১ ধরনের স্বরের মানচিত্র
এই প্রশ্নের উত্তর পেতে কয়েক দিনের শব্দ রেকর্ড যথেষ্ট ছিল না। Dr. Julie E. Elie মাঠপর্যায়ে Zebra Finch-এর জোড়া ও দলের আচরণ অনুসরণ করেছেন, বাসায় মাইক্রোফোন বসিয়ে নীরব ও ব্যক্তিগত স্বর বিনিময় পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং পরে পরীক্ষাগারে একই ধরনের সামাজিক পরিস্থিতি তৈরি করে ডাক সংগ্রহ করেছেন। UC Berkeley-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, Theunissen Lab-এ যোগ দেওয়ার পর প্রায় ১৫ বছর ধরে তাঁর এই কাজ বিস্তৃত হয়েছে।
গবেষকেরা শুধু কোন শব্দ কখন শোনা গেল, তা লিখে রাখেননি। ডাক দেওয়ার সময় পাখিটি কী করছিল, আশপাশে কোন পাখি ছিল, অন্য পাখি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাল এবং ডাকটির আগে-পরে পরিস্থিতি কী ছিল—এসবও নথিবদ্ধ করেছেন। প্রাণীর আচরণের এমন সুশৃঙ্খল তালিকাকে ethogram বলা হয়। এই পর্যবেক্ষণ ডাকের ধ্বনিগত গঠন এবং তার সম্ভাব্য সামাজিক কাজকে পাশাপাশি রাখার সুযোগ দেয়।
দীর্ঘ কাজের ভিত্তিতে Zebra Finch-এর স্বরভান্ডারকে ১১টি ethogram-based call type বা আচরণভিত্তিক স্বরশ্রেণিতে সাজানো হয়। এগুলোর মধ্যে কাছাকাছি ও দূরের যোগাযোগ, জোড়ার বন্ধন ও বাসার আচরণ, সতর্কতা, অস্বস্তি বা বিরোধ, ক্ষুধা এবং পুরুষ পাখির গানসংশ্লিষ্ট শ্রেণি রয়েছে। এগুলোকে মানুষের ভাষার ১১টি ‘শব্দ’ বলা আকর্ষণীয় শোনালেও বৈজ্ঞানিকভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। প্রতিটি call type একটি নির্দিষ্ট ধ্বনি ও আচরণগত প্রেক্ষাপটের শ্রেণি; এগুলো মানুষের শব্দের মতো ইচ্ছামতো বাক্যে বসানো যায়—গবেষণাটি এমন প্রমাণ দেয়নি।
গবেষণার তথ্যভান্ডারে প্রায় ৮ হাজার স্বরের নমুনা ছিল। নমুনাগুলো বহু পাখির কাছ থেকে নেওয়া হওয়ায় একই শ্রেণির ডাকেও ব্যক্তিভেদে স্বাভাবিক পার্থক্য ছিল। এই বৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ। একটি পাখির একটি নির্দিষ্ট রেকর্ড বারবার শোনালে পরীক্ষাধীন পাখি সেটি মুখস্থ করতে পারত। বহু পাখির বহু নমুনা ব্যবহারে বোঝা যায়, সে নির্দিষ্ট রেকর্ড চিনছে, নাকি ধ্বনিটির বিস্তৃত শ্রেণি ধরতে পারছে।
AI কোথায় কাজ করেছে
হাজার হাজার শব্দের মধ্যে pitch, timbre, rhythm, দৈর্ঘ্য, ধ্বনির ওঠানামা এবং অন্যান্য acoustic feature মানুষের পক্ষে হাতে ধরে তুলনা করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। Machine Learning মডেল এই বৈশিষ্ট্যগুলো থেকে নিয়মিত ধরন ও পার্থক্য শনাক্ত করতে সাহায্য করেছে। এর মাধ্যমে গবেষকেরা একটি ‘acoustic space’ তৈরি করতে পেরেছেন—অর্থাৎ ধ্বনিগত বৈশিষ্ট্যের হিসাবে কোন ডাক কোনটির কাছাকাছি, তার একটি বিশ্লেষণাত্মক মানচিত্র।
কিন্তু acoustic space পাখির মনের মানচিত্র নয়। একটি মডেল দুই ধরনের ডাককে কাছাকাছি বললেই পাখিও সেগুলোকে একইভাবে দেখে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এখানেই আচরণগত পরীক্ষার প্রয়োজন হয়েছে। গবেষকেরা পাখির সঠিক সিদ্ধান্ত, ভুল সিদ্ধান্ত এবং নতুন কণ্ঠের ডাক শুনে প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করে আরেকটি perceptual space তৈরি করেন। তারপর ধ্বনিগত মিলের মানচিত্রের সঙ্গে পাখির আচরণ থেকে পাওয়া মানচিত্র তুলনা করা হয়।
এই পদ্ধতিতে AI ছিল বিশ্লেষণের সহায়ক। অর্থ বা উদ্দেশ্য নির্ধারণের একমাত্র বিচারক ছিল না। কোন ডাক কোন পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত হয়েছে, তা দীর্ঘদিন ধরে মানুষ পর্যবেক্ষণ করেছে। সেই শ্রেণি পাখি সত্যিই মানে কি না, তা পাখির নিজস্ব আচরণ দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলে গবেষণাটিকে শুধু ‘AI পাখির ভাষা অনুবাদ করেছে’ বলা হলে মূল বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াটি আড়াল হয়ে যায়।
AI ব্যবহারের আরেকটি সুবিধা হলো ধারাবাহিকতা। মানুষের শ্রবণশক্তি ও মনোযোগে সীমাবদ্ধতা আছে; একই ধরনের হাজারো ক্ষুদ্র শব্দ তুলনায় ক্লান্তি বা ব্যক্তিগত বিচার প্রভাব ফেলতে পারে। প্রশিক্ষিত বিশ্লেষণব্যবস্থা একই নিয়মে বিপুল তথ্য পর্যালোচনা করতে পারে। তবে ভুল শ্রেণি, পক্ষপাতযুক্ত নমুনা বা অসম্পূর্ণ আচরণগত তথ্য দিলে মডেলের ফলও বিভ্রান্তিকর হতে পারে। তাই এই ক্ষেত্রেও তথ্যের মান এবং গবেষণার নকশা প্রযুক্তির চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
Web Design: নতুনদের জন্য ওয়েবসাইট ডিজাইন শেখার পূর্ণাঙ্গ গাইড
পাখিদের সামনে যেভাবে পরীক্ষা নেওয়া হয়
২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর Science সাময়িকীতে প্রকাশিত মূল গবেষণাপত্রটির শিরোনাম ছিল “Categorical and semantic perception of the meaning of call types in zebra finches”। আচরণগত পরীক্ষায় ৬টি পুরুষ ও ৬টি স্ত্রী—মোট ১২টি প্রাপ্তবয়স্ক Zebra Finch অংশ নেয়। তাদের এমন একটি ব্যবস্থা শেখানো হয়, যেখানে একটি বোতাম ঠোকরালে রেকর্ড করা ডাক বাজত।
নির্দিষ্ট দিনে একটি call type-এর সঙ্গে বীজের পুরস্কার যুক্ত করা হতো। পুরস্কারযোগ্য ডাক বাজলে পাখিকে অপেক্ষা করতে হতো; শব্দ শেষ হলে খাবার পাওয়া যেত। অন্য ধরনের ডাক বাজলে অপেক্ষা করে লাভ ছিল না। সে ক্ষেত্রে আবার বোতাম ঠোকর দিয়ে শব্দটি মাঝপথে থামিয়ে পরবর্তী নমুনায় যাওয়া সম্ভব ছিল। সহজ ভাষায়, পাখি দ্রুত অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ বাদ দিয়ে পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত ডাকটি খুঁজত।
এই পরীক্ষার বুদ্ধিদীপ্ত দিক ছিল একই call type-এর বহু আলাদা নমুনা ব্যবহার। ভিন্ন পাখির কণ্ঠে একই সামাজিক ডাকের রূপ কিছুটা বদলে যায়। তারপরও পরীক্ষাধীন Zebra Finch যদি পুরস্কারযোগ্য শ্রেণি চিনতে পারে, তাহলে বোঝা যায় সে একটি রেকর্ড মুখস্থ করেনি; বরং ভিন্ন ভিন্ন কণ্ঠের মধ্যেও স্বরশ্রেণির সাধারণ বৈশিষ্ট্য ধরেছে।
গবেষকেরা নতুন vocalizer বা আগে না শোনা পাখির রেকর্ডও পরীক্ষায় যুক্ত করেন। নতুন কণ্ঠ শোনার পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াতেই পাখিরা শেখা শ্রেণি অনুযায়ী সাড়া দিতে পেরেছিল। এই সাধারণীকরণ call type-কে বাস্তব মানসিক শ্রেণি হিসেবে বিবেচনা করার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। কারণ শুধু পরিচিত কণ্ঠ মুখস্থ করলে নতুন পাখির ডাকের ক্ষেত্রে এমন ফল পাওয়ার কথা নয়।
এখানে ‘পাখিদের জিজ্ঞেস করা’ কথাটি রূপক অর্থে ব্যবহার করা যায়। গবেষকেরা মানুষের ভাষায় প্রশ্ন করেননি। পরীক্ষার নিয়ম এমনভাবে সাজিয়েছেন, যাতে পাখির পছন্দ, অপেক্ষা, শব্দ থামানো এবং ভুলের ধরন থেকেই তার শ্রেণিবোধ সম্পর্কে উত্তর পাওয়া যায়। প্রাণী আচরণ গবেষণায় এই ধরনের পরোক্ষ কিন্তু পরিমাপযোগ্য প্রমাণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
ভুলের মধ্যেই পাওয়া গেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত
পাখিরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডাকের ধরন ঠিকভাবে আলাদা করতে পেরেছে। কিন্তু গবেষকদের সবচেয়ে আগ্রহের জায়গা ছিল তাদের ভুল। কারণ ভুলগুলো যদি এলোমেলো না হয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে, তাহলে পাখির উপলব্ধির ভেতরের কাঠামো সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
ধরা যাক, দুটি ডাক শুনতে প্রায় একই রকম, কিন্তু একটি কাছাকাছি থাকা সঙ্গীর অবস্থান জানায় এবং অন্যটি বিপদের সতর্কতা দেয়। শুধু acoustic similarity গুরুত্বপূর্ণ হলে পাখির এই দুটি ডাক বেশি গুলিয়ে ফেলার কথা। আবার দুটি যোগাযোগমূলক ডাক ধ্বনিগতভাবে আলাদা হলেও সামাজিক কাজ কাছাকাছি হলে, শুধু শব্দনির্ভর শ্রেণিবিন্যাসে তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি কম হওয়ার কথা।
বাস্তবে দেখা গেছে, Zebra Finch কখনো কখনো একই ধরনের সামাজিক অর্থ বহনকারী ডাককে বেশি গুলিয়ে ফেলেছে, যদিও সেগুলোর শব্দগত গঠন যথেষ্ট আলাদা। কাছাকাছি অবস্থানে ব্যবহৃত নরম Tet call এবং দূরে থাকা পাখির জন্য ব্যবহৃত Distance call তার একটি উদাহরণ। দুটি ডাক শুনতে এক নয়, কিন্তু উভয়টির কাজ সামাজিক যোগাযোগ ও অবস্থান ধরে রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত। বিপরীতে, Tet call-এর সঙ্গে ধ্বনিগত মিল থাকা একটি alarm call তুলনামূলক কম বিভ্রান্ত করেছে, কারণ তার আচরণগত তাৎপর্য ভিন্ন।
গবেষকেরা এই প্রবণতাকে semantic magnet effect হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ একই বিস্তৃত সামাজিক কাজের ডাকগুলো পাখির উপলব্ধিতে যেন পরস্পরের দিকে কিছুটা টেনে আসে। এতে acoustic feature অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়নি; শব্দের গঠন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু শুধু ধ্বনিগত মিল দিয়ে পাখির সব ভুল ব্যাখ্যা করা যায়নি। আচরণগত অর্থের সম্পর্কও তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।
এটি সরাসরি পাখির চিন্তা পড়ে ফেলার প্রমাণ নয়। বিজ্ঞানীরা কোনো প্রাণীর ভেতরের অনুভব সরাসরি দেখতে পারেন না। তারা নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষায় আচরণের নিয়মিত ধরন থেকে সবচেয়ে যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা দাঁড় করান। এই গবেষণায় সেই ব্যাখ্যা হলো, Zebra Finch ডাককে কেবল শব্দের আকৃতি হিসেবে প্রক্রিয়াজাত করে না; ডাকের সামাজিক কাজের একটি মানসিক উপস্থাপনাও সক্রিয় হতে পারে।
একই বার্তা, কিন্তু কণ্ঠে আলাদা পরিচয়
পাখির যোগাযোগে ‘কী বলা হচ্ছে’ এবং ‘কে বলছে’—দুই ধরনের তথ্য একই শব্দে থাকতে পারে। একই call type বিভিন্ন Zebra Finch ব্যবহার করলেও প্রতিটি পাখির কণ্ঠে সূক্ষ্ম ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য থাকে। আগের একটি পৃথক গবেষণায় দেখা গেছে, Zebra Finch গান ও Distance call-এর ব্যক্তিগত vocal signature ব্যবহার করে বহু পরিচিত পাখিকে আলাদা করতে পারে। সেই পরীক্ষায় পাখিগুলো গড়ে ৪২টি vocalizer-এর পরিচয় মনে রাখতে পেরেছিল।
এই ফল ২০২৫ সালের call type গবেষণার সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও দুটিকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। একটি গবেষণা মূলত ব্যক্তির কণ্ঠপরিচয় ও স্মৃতির ক্ষমতা পরীক্ষা করেছে; অন্যটি ১১ ধরনের ডাকের শ্রেণি এবং অর্থগত সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেছে। দুটো ফল পাশাপাশি রাখলে একটি সমৃদ্ধ চিত্র পাওয়া যায়: একটি ডাক একই সঙ্গে প্রেরকের পরিচয়, স্বরের শ্রেণি এবং সামাজিক পরিস্থিতির সংকেত বহন করতে পারে।
- Nulled
- Tech
- Job
- Hacking Course
- News
- Out Knowledge
- Status
- Quotes
- Caption
- Stories
- Education
- Shopping
- Entertainment
- Lifestyle
- Business
- Travel
- Opinion
- Art
- Causes
- Crafts
- Dance
- Drinks
- Film
- Fitness
- Food
- Games
- Gardening
- Health
- Home
- Literature
- Music
- Networking
- Other
- Party
- Religion
- Shopping
- Sports
- Theater
- Wellness