Sponsored

ইন্ডিয়ার দিল্লি - আগ্রা - কাশ্মীর ভ্রমণ

0
1

কাশ্মীরের গল্প শুনলে সবারই জীবনে একবার হলেও কাশ্মীর ভ্রমণ করতে যাওয়ার ইচ্ছে জাগবে। ইন্ডিয়াতে এর আগে কলকাতা, দার্জেলিং, মেঘালয় ঘুরা হয়েছে। এটি এমন একটা দেশ, যে দেশের এক এক একটা রাজ্য এক এক রকম। এগুলোর মধ্যে সবার মতে কাশ্মীর সবচেয়ে সুন্দর।

কাশ্মীর বাংলাদেশ থেকে মোটামুটি ভালই দূরে। সরাসরি কোন ট্রান্সপোর্ট নেই। ট্রেন হোক বয়া এয়ার, দিল্লী হয়ে যেতে হয়। ট্রেনে প্রচুর সময় লাগে, তাই আমরা এয়ারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। ঢাকা থেকে দিল্লী এবং দিল্লী থেকে শ্রীনগর আলাদা আলাদা টিকেট কিনে নিয়েছি। ঢাকা থেকে দিল্লী টিকেট নিয়েছে ১৫ হাজার করে জন প্রতি। এয়ার ভিস্তারার ফ্লাইট UK 182। সকাল 10.15 এর ফ্লাইট। একটু কম বেশি পাওয়া যাবে সময়ের উপর নির্ভর করে। দিল্লী থেকে শ্রীনগর এর টিকেট নিয়েছে প্রায় ৬ হাজার করে। Go Fast এর G8 267 ফ্লাইটে। টিকেট এমন ভাবে কেটেছি যেন এক দিনে দিনেই শ্রীনগর চলে যাওয়া যায়। মাঝ খানে প্রায় ৩ ঘণ্টার গ্যাপ রেখেছি। এর কম গ্যাপ থাকলে ফ্লাইট মিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এয়ার ভিস্তারা মোটামুটি ভালোই। অন্তন্ত বাংলাদেশ থেকে ইন্ডিয়া যাওয়ার জন্য বেস্ট। আমরা ৭ এ জানুয়ারি রওনা দেই। সকাল ৭টার দিকেই এয়ারপোর্টে চলে যাই। টিকেট কেনার সময় বলে দিয়েছে যেন ৪ ঘণ্টা আগে এয়ারপোর্টে থাকি। আমাদের বাসা থেকে এয়ারপোর্ট বেশি দূরে না। তাই কম সময়ে এয়ারপোর্ট পৌঁছে যাই। বোর্ডিং পাস, ইমিগ্রেশন শেষ করার পর প্রচুর সময় হাতে। বসে বসে কিছু কাজ করে নিলাম।

নির্দিষ্ট সময় থেকে ১৫ মিনিট লেট করেছে ফ্লাই করতে। ক্যাপ্টেন বলে দিয়েছে এই সময়টা ওরা কভার করারা চেষ্টা করবে। ফ্লাইটে ওদের নন ভেজ আইটেম গুলো হালাল না। তাই আমরা ভেজ আইটেম নিয়েছি খাওয়ার জন্য। নির্দিষ্ট সময় আমরা দিল্লী পৌঁছাই। দিল্লী বিমান থেকে বের হওয়ার পর দেখলাম ওরা র‍্যান্ডমলি কয়েকজনের করোনা টেস্ট করে। র‍্যান্ডমলি আমাকেও নিল করোনা টেস্ট করার জন্য। বেশি সময় লাগেনি। প্রায় ১০ মিনিট লেগেছে। এরপর ইমিগ্রেশন শেষ করে ডমিস্টিক টার্মিনালে গেলাম। গিয়ে শুনলাম Go Fast এর ফ্লাইট গুলো টার্মিনাল ২ থেকে পরিচালনা করা হয়। টার্মিনাল ৩ এ ছিলাম। মোটামুটি ভালোই দূরত্ব। আলাদা আরেকটা বিল্ডিং। খুঁজে বের করে বোর্ডিং পাস নিলাম। বোর্ডিং এরিয়াতে চেক ইন করতে গেলাম। আমাদের দেশের ইন্টার্ন্যাশনাল ফ্লাইটের চেকইন থেকেও বেশি সিকিউর চেক ইন! ঢুকে হালকা নাস্তা খেয়ে নিলাম। যারা হালাল খাবার খেতে চান, একটু চেক করে খেলে ভালো হবে। বেশির ভাগ নন ভেজ ফুড স্টল হালাল না।

আকাশে সূর্যডুবিআকাশে সূর্যডুবি

Go Fast অনেক দেরি করেছে। নির্দিষ্ট সময় থেকে প্রায় ২ ঘণ্টা দেরি করেছে। পরে দেখলাম Go Fast এর বেশির ভাগ ফ্লাইটই দেরি করে। তাই সুযোগ থাকলে Go Fast এর টিকেট না কেনাই ভালো হবে। আমরা বিকেলের পরিবর্তে সন্ধ্যার পর ল্যান্ড করেছি।

কাশ্মীর আসার পূর্বে কিছু ভিডিও দেখে নিলাম। সবাই বলল এখানে অনেক দামাদামি করতে হয়। নেমেই টের ফেলাম। এয়ারপোর্ট থেকে শ্রীনগর শহরের দূরত্ব মাত্র ১২ কিলোমিটার। এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সি নিলে ১০০০ রুপি চাইলো। একটু সামনে হেটে গেলে শেয়ারিং ট্যাক্সি পাওয়া যায়। শেয়ারিং এ গেলে পার পারসন ১৫০ রুপি করে নিবে। সরকারি বাসও পাওয়া যায়। যদিও সন্ধ্যার পর পাওয়া যায় না।

শ্রীনগর ডাল লেকে আগে থেকে আমরা এয়ারবিএনবি এর মাধ্যমে একটা হাউজবোটে রুম বুকিং দিয়ে রেখেছিলাম $16 প্রতি রাতের জন্য। তো তাই এয়ারপোর্ট থেকে আমরা সরাসরি ডাল লেকে চলে যাই। এখানে এসে প্রথমে একটা দোকান থেকে সিম নেই। সিম ২৮ দিনের প্যাকেজ ৭০০ রুপি নিয়েছে। যার মধ্যে প্রতিদিন দেড় জিবি ডেটা ও আনলিমিটেড লোকাল কল রয়েছে। ইন্ডিয়ানদের জন্য যদিও তা ৫০০ রুপি। সিম নিয়ে আমাদের হাউজবোটের উঠার জন্য ঘাটে গেলাম। ঘাট থেকে ওরা ছোট নৌকা, যাকে ওরা শিখারা বলে, তাতে করে হাউজবোটে নিয়ে যায়।

রাতের ডাল লেকরাতের ডাল লেক

বাংলাদেশে কাপ্তাই লেকে অথবা হাওরেও হাউজবোট রয়েছে। আমাদের দেশের গুলোতে করে এক যায়গা থেকে অন্য যায়গায় যাওয়া যায়। এখানের গুলো ফিক্সড। হোটেলের সাথে খুব একটা পার্থক্য নেই। একটাই পার্থক্য, এগুলো পানির উপরে ভাসমান।

হাউজবোটে যাওয়ার পর চা খেলাম। অস্থির চা বানিয়ে দিল। কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে রাতের খাবার খেলাম। চিকেন কারি, ডাল, মটরশুঁটি ও আলু মিক্স করে ভাঁজি। খাবার কোয়ালিটি মোটামুটি ছিল। অনেক ঠাণ্ডা লাগছিল। রুমে হিটার আছে, তার জন্য এক্সট্রা রুপি দিতে হবে বলল। ৪ ঘণ্টার জন্য ৫০০ রুপি। যদিও বেডে হিটেড বিছানা ছিল। তাই ঘুমানোর সময় খুব একটা সমস্যা হয়নি। উল্টো গরমই লেগেছে।

দ্বিতীয় দিন

সকালে নাস্তা খেলাম হাউজবোটেই। আমাকে জিজ্ঞেস করছিল কি খাবো। অপশনে ছিল ব্রেড, ডিম অমলেট ও খিচুড়ি। আমি খিচুড়ি দিতে বললাম। কিন্তু প্লেইন খিচুড়ি ছিল। পরে বলার পর চিকেন কারির ঝোল এনে দিয়েছিল। খুব একটা ভালো লাগেনি খেতে।

এরপর আমরা গুলমার্গে যাওয়ার জন্য বের হলাম। ট্যাক্সি নিয়ে যাওয়া যায়। ২-৩ হাজার রুপি লাগে ট্যাক্সি রিজার্ভ করে গেলে। আমরা দুইজন। তাই শেয়ারে যাওয়ার প্ল্যান করলাম। এয়ারবিএনবি এর হোস্ট বলে দিল কিভাবে যেতে হবে গুলমার্গ। আমরা বলছিলাম বাসে যাবো। বলল বাসে যাওয়া ঠিক হবে না, অনেক সময় লাগবে। শেয়ার ট্যাক্সি করে যেতে বলল। উনার সাজেশন অনুযায়ী জন্য প্রথমে ডাল লেক থেকে বাটমালো এসেছি একটা অটোতে করে। অটো ১৫০ রুপি নিয়েছে। সেখান থেকে শেয়ার ট্যাক্সি করে টাঙ্গমারো এসেছি। ১০০ করে মোট দুইশ রুপি নিয়েছে। টাঙ্গমারো থেকে এরপর আরেকটা শেয়ারড ট্যাক্সি করে গুলমার্গ এসেছি। যা ৫০ রুপি করে মোট ১০০ নিয়েছে আমাদের দুইজন থেকে।

এখানে প্রায় প্রত্যেকটা যায়গায় আমাদের বলেছে যে কোন শেয়ারড ট্যাক্সি পাওয়া যাবে না। পুরো ট্যাক্সি রিজার্ভ করে নিতে হবে। বিশ্বাস করেন।, বাংলাদেশেও অনেক ফ্রড আছে, বিভিন্ন জায়গায় বেশি রুপি নেয়। কিন্তু কোথাও এদের মত মিস ইনফরমেশন দিতে দেখিনি। যেমন ধরেন বাটমালো। অটো থেকে নামার সাথে সাথে কয়েকজন ট্যাক্সি ড্রাইভার এসে ঘিরে ধরল। কই যাবো জিজ্ঞেস করল। আমরা গুলমার্গ শেয়ার্ড ট্যাক্সি খুঁজছি, বলল যে কোন শেয়ার ট্যাক্সি পাওয়া যাবে না। চাইলে রিজার্ভ করে যেতে পারব। আমাদের অটোওয়ালা হেল্প করল। কোথায় গেলে ট্যাক্সি পাবো, তা বলে দিল। এরপর সেখানে গিয়ে শেয়ার্ড ট্যাক্সি করে টাংমারো এসেছি। এখানে বিভিন্ন দালাল এসে বলল শেয়ার্ড ট্যাক্সি পাবো না, রিজার্ভ করে যেতে। এছাড়া বলল বুট জুতা, এবং জ্যাকেট রেন্ট নিতে। যার কিছুই আসলে দরকার হয় না।

ট্যাংমারো আসার পথে অনেক জায়গায় বরফ দেখা গিয়েছে। এখানে এসে দেখি স্নো পড়ছে। প্রথম স্নো ফল দেখা। স্নো বৃষ্টিরই একটা রূপ বলা যায়। অন্যরকম। কিছুটা তুলার মত। হাত দিয়ে ধরলে শরীরের তাপমাত্রায় গলে যায়।

টাংমারো থেকে গুলমার্গের রাস্তা অনেক আঁকাবাঁকা। এত সুন্দর। পাহাড়ি রাস্তা। পাহাড়ের উপড়ে নিচে প্রচুর পাইন গাছ। আর নিচে পুরোটাই বরপে সাদা হয়ে রয়েছে। গুলমার্গ রুম আগে বুক করিনি। ভাবলাম এখানে এসে করব। এখানে এসে রুম দেখতে যাবো, দালাল পিছু ধরল। যতই বলি আমরা নিজেরা নিজেরা ম্যানেজ করে নিতে পারব। কে শুনে কার কথা। আমাদের পেছনেই লেগে থাকল। একজন না, একের অধিক! কি যে বিরক্ত লাগছিল। বার বার বলতেছিল রুম পাবো না। তারা যে হোটেল দেখিয়েছে, সেখানেই উঠতে। আমি ভাবলাম অন্য আরেকটা হোটেলে উঠব। পরে যত গুলো হোটেলে গিয়েছি, আমার পেছন পেছন ওরা গিয়েছে। সমস্যা হচ্ছে এখানে হোটেল কম। তো কয়েকটা হোটেল দেখে পছন্দ না হওয়াতে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড ফিরে এলাম। এখানেই একটা হোটেল আছে। যার লাস্ট রুমটা আমরা বুক দিলাম। ভালো হত যদি অনলাইনে বুক দিয়ে আসতাম।

হোটেল বুক দিয়েছি ডিনার এবং ব্রেকফাস্ট সহ। হোটেল রুম ফি হচ্ছে ৪০০০ রুপি। আর ১০০০ রুপি হচ্ছে ডিনার এবং ব্রেকফাস্টের জন্য। রুমে ব্যাগ রেখে বের হয়ে পড়লাম। হোটেলের পাশেই পুরা এরিয়া স্নোতে ঢেকে রয়েছে। বিভিন্ন এক্টিভিটি করা যায়। তো তার জন্য বুট জুতা লাগে। বুট জুতা এখানে রেন্ট পাওয়া যায়। তবে বুট জুতা থেকে আরো ভালো অপশন হচ্ছে শু কভার কিনে নেওয়া। যা ব্যাকপ্যাকে ক্যারিও করা যাবে। এখানে একটা দোকান থেকে শু কভার কিনে নিলাম। যেটা রাবারের তৈরি। নিচে গ্রিপও রয়েছে। স্নোতে খুব সহজে হাঁটা যায়। জুতাও ভিজে না। এই কভার আরো আগে কিনলে ভালো হত। স্নোতে হেঁটে হোটেল রুম খুঁজতে গিয়ে জুতা, মোজা সব ভিজিয়ে ফেলছি ততক্ষণে। এ ছাড়া এর আগে ডাবল মোজা পরেও ঠাণ্ডা লাগছিল পায়ে। সারা শরীরের কোথাও ঠাণ্ডা না লাগলেও কেন জানি পায়ে ঠাণ্ডা লাগতেছিল। শু-কভার পরার পর আর ঠাণ্ডা লাগেনি।

গুলমার্গগুলমার্গ

স্নোতে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলাম বিকেলে। এরপর ক্যাবল কারের টিকেট কিনলাম। অনলাইনে কেনা যায়। তবে শুধু মাত্র ইন্ডিয়ান কার্ড ব্যবহার করে কেনা যায়। তাই নিজে নিজে কিনতে পারিনি। এখানে একটা দোকানদারের হেল্প নিলাম। প্রতি টিকেটে ৬০রুপি করে এক্সট্রা নিয়েছিল।

স্নো স্নানস্নো স্নান

সন্ধ্যার পর রুমে ফিরে এলাম। রাত না হতেই সবাই নিজ নিজ ঘরে ঢুকে যায়। খুব একটা মানুষ দেখা যায় না রাস্তায়। দুই একটা গাড়ি যেতে দেখছি শুধু। ৮টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে নিলাম। এরপর আর কি। ঘুম! রুমে হিটার ছিল। হিটেড বেড ছিল। এসব না থাকলে মনে হয় ঠাণ্ডায় জমে যেতাম।

তৃতীয় দিন

পরের দিন সকালে উঠে নাস্তা করে নিলাম। আলু পরটা, ডিম অমলেট, ব্রেড আর বাটার দিয়েছিল। এরপর চা। নাস্তা করে গন্ডোলা এর দিকে গেলাম। হোটেল থেকে 1.4km দূরত্ব। যাওয়ার পথটা সুন্দর। ডান পাশে গলফ কোর্ট সম্ভবত, যা এখন পুরোটাই স্নো এর নিছে। হাঁটার কারণে ঠাণ্ডা লাগার পরিবর্তে উল্টো গরম লাগছিল।

ক্যাবল কারের কাছা কাছি যাওয়ার পর এক দালাল পিছু নিল। অনেক কিছুই বলল। তাকে হায়ার করলে কি কি সুবিধে পাবো, এসব জানালো। ৫০০ রুপি দিলেই হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। কি কি অফার দিয়েছে, বলি। প্রথম অফার ছিল ক্যাবল কারের বগিতে ৬ জন বসে। উনাকে হায়ার করলে আমাদের দুই জনের জন্য স্পেশাল ভাবে একটা বগিই ম্যানেজ করে দিবে। গাইড করে এটা সেটা দেখাবে। আরো কত কিছু। এত বেশি বিরক্ত করছিল। যত বলি আমাদের কিছু লাগবে না। তত আরো বেশি জোর করে এটা সেটা বলে। এর থেকে বড় কথা হচ্ছে এরা অনেক বেশি মিসগাইড করে। আমরা ক্যাবল কারে উঠার জন্য সেকেন্ড ফ্লোরে যেতে চাচ্ছিলাম। বলল এদিকে না, নিচেই বসতে। আমিও ভাবলাম হয়তো নিচ থেকেই আমাদের ঢেকে নিবে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দেখলাম সবাই সেকেন্ড ফ্লোরে উঠে যাচ্ছে। আমরাও উঠে গেলাম। ক্যাবল কারে উঠতে গিয়ে দেখলাম পুরো বগিতে আমরা দুইজন ই উঠেছি। আরো অনেক গুলো খালি। ট্রাভেলার খুব একটা নেই। এছাড়া উপরেও গাইড করার মত কিছু নেই। যেখানে যেখানে যাওয়া যাবে, সব মার্ক করা। যে দিকে যাওয়া যাবে না, সেখানে ফ্ল্যাগ দেওয়া। এই তো। খামাখা দালালরা বিরক্ত করে। ওদের ধৈর্য দেখে আমি অবাক। আমার পেছনে অন্তত আধাঘণ্টা লেগে ছিল!

গন্ডোলা ক্যাবল কার থেকে ভিউগন্ডোলা ক্যাবল কার থেকে ভিউ

 

 

কয়েকজন পানির দেখে অনেক দূর এসে নাস্তা করছে
Search
Categories
Read More
Hacking Course
[HOT] Free Fire Emote ওয়েবসাইট! সব ধরনের Emote দিন লবিতে ফ্রী! 🔥🔥
WELLCOME BACK 𝑯𝒆𝒍𝒍𝑜 𝒈𝒖𝒚𝒔, 𝒉𝑜𝒘 𝑎𝑟𝑒 𝑦𝑜𝑢? 𝐻𝑜𝑝𝑒 𝑦𝑜𝑢 𝑎𝑟𝑒 𝑑𝑜𝑖𝑛𝑔 𝑤𝑒𝑙𝑙! 𝑆𝑜 𝑙𝑖𝑘𝑒 𝑒𝑣𝑒𝑟𝑦 𝑑𝑎𝑦, 𝑡𝑜𝑑𝑎𝑦 𝐼𝑎𝑚...
By Nettumi 2026-09-25 16:56:22 0 47
Nulled
Ledu v1.2 - Education Courses & Online Training Bootstrap 5 Template
Ledu v1.2 – Education Courses & Online Training Bootstrap 5 Template Free Download....
By Nettumi 2026-09-17 18:44:12 0 37
Nulled
Cariera v2.0.1 - Job Board WordPress Theme
Cariera v2.0.1 – Job Board WordPress Theme Free Download. Cariera is a...
By Nettumi 2026-09-17 17:45:56 0 13
Nulled
Evento v4.0 Nulled - Multivendor Event Ticket Booking Website Script
Evento v4.0 Nulled – Multivendor Event Ticket Booking Website Script Free Download....
By Nettumi 2026-09-17 18:16:23 0 50
Tech
সাইন্স-ফিকশন ড. নাফিস
ড. নাফিস তার সারা জীবন ব্যয় করেছে শিক্ষার পেছনে।সে একটি বিষয়ে পড়ালেখা করে সে বিষয় Phd করেই...
By Nettumi 2026-09-30 18:44:10 0 1
‎ ‎ ‎
Nettumi https://nettumi.com