Sponsored

মেঘের দেশ মেঘালয়ে কয়েকটি দিন - শিলং ভ্রমণ

0
57

সিলেট গেলেই দূর থেকে ঝর্ণা গুলো দেখে মেঘালয় এবং শিলং ভ্রমণ করতে যেতে ইচ্ছে করত। খুব আপসুচ হত যে সুন্দর এই ঝর্ণা এবং পাহাড় গুলো ইন্ডিয়ার অংশ। ইচ্ছে করত ঐ পাহাড়ের উপড়ে উঠতে। তাই মেঘালয় যেতে খুব ইচ্ছে করত। মেঘালয় সরাসরি কোন এয়ার নেই বাংলাদেশ থেকে। এয়ারে যেতে হলে ঢাকা থেকে কলকাতা, কলকাতা থেকে এরপর মেঘালয়। তা বাস জার্নি থেকে কম কষ্টের না। বাই রোডে যেতে হলে তামাবিল/ডাউকি পোর্ট দিয়ে যেতে হয়। তার জন্য ভিসা করার সময় ডাউকি পোর্ট উল্লেখ করে দিতে হয়। এবার ইন্ডিয়ান ভিসা করেছি স্পেশালি মেঘালয় যাওয়ার জন্য।

স্বপ্ন যাত্রা থেকে মামুন ভাই একটা ট্যুরের আয়োজন করেছে। মামুন ভাইদের সাথে রওনা দিলাম মেঘালয়ের দিকে। গ্রীন লাইনে করে। রাজারবাগ থেকে বাস ছাড়ল ১২টার দিকে। রওনা দিলাম সিলেটের দিকে। রাত আড়াইটার দিকে যাত্রা বিরতি দিল। গ্রীন লাইনে ফ্রি বুফ্যে খাবার দেয়। ফ্রি হিসেবে ভালো বলা যায়।

প্রথম দিন

সিলেটে পৌছেছি সকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে। ছয়টার দিকে লোকাল একটা বাস রিজার্ভ করে আমরা রওনা দিলাম তামাবিল বর্ডারের দিকে। পথে একটা রেস্টুরেন্টে নাস্তা করে নেই। নাম VIP হলেও কাজে VIP না। ঘুরতে এসে ভালো খারাপ খুঁজতে গেলে ঘুরার আনন্দ নষ্ট হয়। যা পাওয়া যায়, তাতে সন্তুষ্ট থাকলে ভালো উপভোগ করা যায়।

তামাবিল বর্ডারে তখনো কাজ শুরু করে নাই। অনেক অনেক পর্যটক দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমরা তামাবিল পৌছাই প্রায় ৮টার দিকে। কিছুক্ষণ পর শুনি ইমিগ্রেশন ফরম শেষ! আমরা ভাগ্যক্রমে আগেই পেয়েছি। এরপর লাইনের ধরে ইমিগ্রেশন শেষ করে ট্যাক্স জমা দেই। বর্ডারে কোন ফরম ছাড়া যে ট্যাক্স জমা নেওয়া হয়, মনে হয় না সেগুলো রাজস্বতে জমা হয়। অফিশিয়াল কাজ কর্ম শেষ করে এরপর বাংলাদেশ বর্ডার পার হয়ে ইন্ডিয়াতে ঢুকি। ইণ্ডিয়ার পাশে একজন দাঁড়িয়ে ছিল পাসপোর্ট চেক করার জন্য। চেক করা শেষে সামনের দিকে গেলাম আমরা।

ইন্ডিয়াতে এসে আবার ইমিগ্রেশন। এখানেও বিশাল লাইন। অনেক আস্তে আস্তে কাজ এগুচ্ছে। পাসপোর্ট জমা দিয়ে হাটাহাটি করলাম। এরপর এক সময় কাজ শেষ হলো। তখন প্রায় এগারোটা।

আমরা টাটা সুমোতে করে রওনা দিলাম উমক্র‍্যামের দিকে। ঝর্ণা দেখতে। পাহাড়ি রাস্তা। পাহাড়ের উপর থেকে বাংলাদেশ দেখা যায়। দেখা যায় জাফলং ঘুরতে আসা বাংলাদেশী পর্যটক। তারা তখন হয়তো চিন্তা করে ঐ পাহাড়ের উপর কি রয়েছে। আমরা তখন ওই পাহাড়ের উপর।

আমাদের ড্রাইভার ভুল করে আমাদের শিলং এর দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। পরে আবার অনেকদূর রাস্তা ব্যাক করি আমরা। বর্ষাকাল হওয়াতে উমক্র‍্যামে প্রচুর পানি। কিছুক্ষণ এখানে থেকে রওনা দেই পরবর্তী স্পটে।

উমক্র্যাম ঝর্ণা

এরপর থামি আমরা বড় হীল নামক একটা ঝর্ণাতে। এটা উমক্রেম থেকেও বিশাল একটা ঝর্ণা। এছাড়া চারপাশ এত সুন্দর। আমার বসে থাকতে খুব ইচ্ছে করছিল। কিন্তু বসে থাকলে পরের স্পট তো আর দেখা হবে না।

বড় হিল ঝর্ণা

বড় হিল থেকে আমরা গেলাম মউলিন নামক গ্রামে। লিবিং র‍্যুট ব্রিজ দেখার জন্য। গাছের শিকড় ব্রিজ তৈরি করে দিল। ছবি দেখে ভাবতাম অনেক বড় সড় একটা ব্রিজ হবে। কিন্তু গিয়ে দেখি ছোট্ট একটা ব্রিজ। তারপর ও সুন্দর। ব্রিজে হেঁটে এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়া যায় কিন্তু এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। দাঁড়ালেই ঐখানে পাহারা দেওয়া লোক গুলো বাঁশি বাজানো শুরু করে। নিচ দিয়ে ঝর্ণা বয়ে যায়। মউলিন গ্রাম থেকে কিছুটা নিছের দিকে এই ব্রিজটি। দেখতে হলে কিছদূর ট্র‍্যাকিং করতে হয়।

লিভিং রুট ব্রিজ

দেখা শেষে ফিরে এলাম গ্রামে। তখন সম্ভবত ৪টা। দুপুরের খাবার খেতে হবে। ডাল, আলু ভাজি, ডিম ভাজি আর এক টুকরো পেয়াজ। বিস্বাদ এ খাবার ও ক্ষুদা থাকায় খেয়ে নিলাম।

খাওয়া দাওয়া শেষে গাড়িতে এসে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। আমাদের পরবর্তী গন্তব্য শিলং, হোটেলে। বাকিদের খাওয়া হলে সবাই আসলে রওনা দেই আমরা। পাহাড়ি রাস্তা। গাড়িতে ঘুমানো কষ্টকর। তারপরও ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শিলং পৌছাই। মাঝে মাঝে শুধু দেখলাম মেঘের কারণে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। আমরা পাহাড়ের এতই উপরে, চাইলে প্যারাসুট দিয়ে লাফ দেওয়া যাবে।

হোটেলে এসে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। হোটেলের ওয়াইফাই কাজ করে না ঠিক মত। বের হলাম সিম কেনার জন্য। এতক্ষণে সব দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রাত ৮টার মধ্যে পুরা শহর ঘুমিয়ে যায়। শান্ত শহরে কিছুক্ষণ হাঁটলাম।এরপর হোটেলে ফিরে এলাম। আমাদের জন্য খাবার তৈরি করছিল। সাড়ে নয়টার দিকে রাতের খাবার খেলাম। খাবারের টেস্ট খুব ভালো ছিল। আলু ভর্তা, ডাল, পুদিনা চাটনি, সবজি, মাছ এবং বাসমতি চালের ভাত। খাওয়া দাওয়া করে রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়লাম।

দ্বিতীয় দিন

সকালে ভোরেই ঘুম ভেঙে গেলো। ফ্রেশ হয়ে শিলং শহরে ঘুরতে বের হলাম। পুলিশ বাজার মোড়ে গিয়ে দেখি স্ট্রিট ফুড বিক্রি করছে। রুটি, পরটা, লুচি, সবজি ইত্যাদি। রুটি সবজি আর ডিম খেয়ে নিলাম।

আমরা সবাই বের হবো ৭ টার দিকে। তাই হোটেলে ফিরে এলাম। ৭ টার দিকে রওনা দিলাম সোহরা এর দিকে। Duwan Sing Syiem ভিউ পয়েন্টের দিকে। ঐখানে একটা ঝর্ণা আছে। তার জন্য প্রায় ৩০০ স্টেপ নিচে নামতে হয়। মোটামুটি মানের একটা ঝর্ণা। নামার রাস্তাটা সুন্দর, চার পাশের ভিউও সুন্দর।

Duwan Sing Syiem ভিউ পয়েন্টের ঝর্ণাটির সামনে

নামা যত সহজ, উঠা তত কঠিন। উঠে ঐখানে আমরা নাস্তা করলাম। খাবার কোয়ালিটি তেমন একটা ভালো লাগেনি। লুচি সবজি অথবা নুডুলস রয়েছে খাওয়ার জন্য। নুডুলস খেয়ে নিলাম।

এরপর রওনা দিলাম সেভেন সিস্টার ফলসের দিকে। সাতটা ঝর্ণা এক সাথে। গিয়ে দেখি আকাশ মেঘলা। কিছুই দেখা যায় না। শব্দ শুনা যায়। শব্দ শুনে চিন্তা করতে লাগলাম কেমন হতে পারে ঝর্ণাটি। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। ভালো লাগছিল ঐ বৃষ্টি।

কিছুক্ষণ পর মেঘ কাটল। দেখলাম সাত আপা গুলোকে। অনেক দূর থেকে।

মেঘে ঢাকা সেভেন সিস্টার্স ফলস

সেভেন সিস্টার্স ফলস থেকে গেলাম মৌসুমি ক্যাভে। বড় সড় একটা গুহা। ভেতরে লাইট দেওয়া। অনেক জায়গায় সিড়ি করা। গুহার ভেতরের স্ট্রাকচার কেমন অদ্ভুত সুন্দর। উপর থেকে পাথর ঝুলে আছে। রঙ বেরং এর পাথর।

গুহা থেকে বের হয়ে গেলাম ইকো রিসোর্টে। এটা মূলত সেভেন সিস্টার্স ওয়াটারফলের উপরে। জায়গাটা সুন্দর। কিছু কিছু জায়গায় পাহাড় সামনের দিকে বের হয়ে গিয়েছে। ঐ জায়গায় যাওয়ার লোভ কিভাবে সামলাই? ঐ পাথর গুলোর উপর দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবীর এক শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছি।

সেভেন সিস্টার্স ফলসের উপরে একটা শূন্যে ভাসা পাথরে

ইকোপার্কে কিছুক্ষণ থেকে সোহরা থেকে আমরা শিলং এর দিকে রওনা দিলাম। তখন দুপুর তিনটের মত। দুপুরের খাবার খেতে হবে। যেখানে সকালে নাস্তা করলাম, সেখানেই ফিরে এলাম। Duwan Sing Syiem ভিউ পয়েন্টে।

খাবার খেলাম মাছ, ডাল আর সবজি দিয়ে। এখানেও বাসমতি চাল। ঘ্রাণটা খুব ভালো লাগে।

এখানেই জিপলাইন করা যায়। খাওয়া দাওয়া শেষে জিপলাইনে উঠার জন্য টিকেট কেটে নিলাম। দুইটা লাইন। যাওয়া আসা মিলে চারবার। মাত্র ৮০০ রুপি। আমাদের টিমে আমিই সবার আগে উঠলাম। বাকিদের সাহস হচ্ছিল না। আমি হলাম গিনিপিগের মত! আমি শুরু করার পর টিমের অনেকেই টিকেট কেটে নিল।

জিপলাইনের এক্সপেরিয়েন্স খুবি দারুণ। নিজে নিজেই লাইন ধরে গ্র‍্যাভিটির ফোর্সে নেমে যাওয়া। নির্দিষ্ট দূরত্বে গিয়ে ব্রেক করা। ভালো লাগে। শূন্যে ভেসে চলা। দুই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে। যাদের হাইট ফোবিয়া রয়েছে, তাদের ভয় লাগার কথা। পুরো মেঘালয় এই রোদ থাকে তো এই মেঘে সব ঢেকে যায়। আমি শেষ করে আসার পর দেখি সব মেঘে ঢেকে গিয়েছে। এরপর যারা করল, তারা মেঘের ভেতর দিয়ে জিপলাইন করল, ঐটাও হয়তো দারুণ এক্সপেরিয়েন্স।

জিপলাইন এক্সপেরিয়েন্স

জিপলাইন এডভেঞ্চারের ভিডিওঃ

জিফলাইনিং শেষে রওনা দিলাম শিলং এর দিকে। শিলং এর কাছা কাছি ছিল এলিফেন্ট ফল। শেখানে নামলাম আমরা। এরপর ঘুরা শেষে ফিরে গেলাম হোটেলে। ততক্ষণে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। শিলং শহরে একটু ঘুরতে বের হলাম। সন্ধ্যার দিকে শহরে মোটামুটি ভিড় থাকে। ট্র্যাফিক ও থাকে প্রচুর। যদিও আমাদের দেশের মত অত ভয়ঙ্কর না। ঘুরা শেষে হোটেলে ফিরে রাতের খাবার খেয়ে নিলাম। মাছ ভাজি, ডাল, সবজি দিয়ে।

তৃতীয় দিন

আজও পুলিশ বাজার মোড়ে গিয়ে সকালের খাবার খেয়ে নিলাম। রুটি আর ডিম দিয়ে সুন্দর করে স্যান্ডুইস তৈরি করে দিল। তা খেয়ে নিলাম। এরপর হোটেলে ফিরে রওনা দিলাম লাইটল্যুমের দিকে।

শিলং এ রাস্তা ভালোই ছিল। আবহাওয়া ও ভালো ছিল। লাইট ল্যুমের কাছের দিকে রাস্তা একটু ভাঙা ছিল। গিয়ে দেখি লাইট ল্যুমে কোন আলো নেই। সব মেঘে ঢাকা। মেঘালয় এর নামের সার্থকতা। কিছুক্ষণ মেঘ থাকে, কিছুক্ষণ পর কেটে যায়। আমরা অনেক্ষণ অপেক্ষা করলাম মেঘ চলে যাওয়ার জন্য। কিন্তু মেঘ কাটেনি। রাগ করছে সম্ভবত। ঐখানে একটা দোকান ছিল। আমরা হালকা চা নাস্তা খেয়ে নিলাম।

মেঘ না কাটায় রওনা দিলাম পরবর্তী স্পটে। ডন ভসকো মিউজিয়ামে। টিকেটের পাশা পাশি ছবি তোলার জন্য আলাদা টাকা দিয়ে পাস নিতে হয়। পাস নিলাম।

মিউজিয়ামে আমাদের এই উপমহাদেশের বিভিন্ন বিষয়ের সংগ্রহ রয়েছে। পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন হাতিয়ার, সংগ্রামী মানুষ গুলো, মেঘালয় বা কাছা কাছি এলাকার ইতিহাস ইত্যাদি।

মিউজিয়ামের উপরে শিলং শহর দেখার জন্য রেলিং করা রয়েছে। উপর থেকে শহর দেখতে ভালোই লাগছিল।

মিউজিয়ামের উপর থেকে শিলং শহরের একাংশ

মিউজিয়ামের নিচে ক্যান্টিন ছিল। ক্যান্টিনে গিয়ে আমরা নাস্তা করে নিলাম। লুচি, সবজি আর ডিম। শেষে চা। ঐখানে কিছুক্ষণ থেকে রওনা দিলাম পরবর্তী স্পপ্টে। উমিয়াম লেকে। উপর থেকেই লেকটা দেখলাম। নিচে নামা হয়নি। পানি খুব একটা ছিল না লেকে।

উমিয়াম লেক
Sponsored
Sponsored
Search
Categories
Read More
Tech
Google Authenticator এর ৫ টি সেরা বিকল্প | Techtunes | টেকটিউনস
jQuery দিয়ে লিখার পেছনে চলমান ছবি মেহেদী.কম.বিডি
By Nettumi 2026-09-25 03:58:45 0 53
Tech
ফোনের ভাইরাস দূর করার ১০টি কার্যকর উপায় (২০২৬ আপডেট গাইড)
ফোনের ভাইরাস দূর করার উপায় জানতে চাইছেন? তাহলে এই ২০২৬ সালের আপডেটেড গাইডটি আপনার জন্য। বর্তমানে...
By Nettumi 2026-09-28 07:37:49 0 3K
Nulled
CabME v7.0 - Flutter Complete Taxi Booking Solution App Source
CabME v7.0 – Flutter Complete Taxi Booking Solution App Source Code Free Download. Cabme...
By Nettumi 2026-09-17 18:37:40 0 150
Nulled
Bixos v1.0 - Business & Digital Agency HTML Template Free
Bixos v1.0 – Business & Digital Agency HTML Template Free Download. Bixos is a Clean,...
By Nettumi 2026-09-18 03:49:39 0 252
Job
পরিবার পরিকল্পনা নিয়োগ ২০২৬ সার্কুলার Poribar Porikolpona Job Circular 2026
4.1/5 - (188 votes)☰ মোট পদের ক্যাটাগরি০১টি👥 মোট শূন্যপদনিদিষ্ট নয় আবেদনের শেষ দিন ৭ জুলাই ২০২৬...
By Nettumi 2026-09-24 18:42:50 0 66
‎ ‎ ‎
Nettumi https://nettumi.com