পাহাড়ের দেশ, মাউন্ট এভারেস্টের দেশ নেপাল ভ্রমণ।
আমরা একটি টীম নেপাল ভ্রমণ করতে গিয়েছি। একটা ক্যাম্প এর উদ্দ্যেশ্যে 2nd International Rotaract – Unesco Adventure Camp 2014। বাংলাদেশ থেকে আমরা ১৭ জন গিয়েছি। এটা ছিল Rotaract এবং Unesco এর মেম্বারদের জন্য। আমি সুযোগ পেয়েছি একজন গেস্ট হিসেবে। এটা ছিল আমার প্রথম বিমান ভ্রমন। এবং প্রথম বিদেশ ভ্রমন। তাই অনেক এক্সাইটেড ছিলাম। বাংলাদেশ থেকে ১৯এ মার্চ ২টা ১০ এয়ারপোর্ট থেকে রওনা দিয়েছি। ফিরছি ২৬ এ মার্চ সন্ধ্যা ৬.২৫ এ। ক্যাম্প সম্পর্কে প্রতিদিনেরটা প্রতিদিন লিখলে ভালো হতো। সময় এর অভাবে লিখতে পারি নি। বানান ভুল এবং ব্যাকরণ জনিত অনেক ভুল রয়েছে। তাপরও প্রকাশ করে দিলাম 🙂 ভুল গুলো দেখিয়ে দিলে ভালো লাগবে।
প্রথম দিন।
১৯ তারিখ সকাল ৬টা ৩০ এর দিকে বের হয়েছি রুম থেকে। সাথে আসিফ ভাই ছিল।
পরোটা খেতে একটি দোকানে গিয়েছি, ঐটা এখনো বন্ধ। এখনো খোলা হয়নি। ভালো দোকান। গরুড় মাংস এবং গরম পরটার মত কিছুই হতে পারে না।
খেতে পারলাম না, অন্য দোকানে খেয়ে আমি ইউনিভার্সিটীতে চলে আসলাম। একটা ক্লাস ছিল ৮টা ৩০ এ। ঐটা করার জন্য। আধা ঘণ্টা আগেই চলে আসছি। তাই বসে বসে চা খাচ্ছিলাম। একটি শেষে আরেকটি।
ক্লাস শেসে মানি এক্সেঞ্জে গেলাম, বনানীতে। ওরা বলল গুলশানে যেতে। নেপালি টাকা ঐ খানে পাওয়া যাবে। যাওয়ার পথে বাংলাদেশের পতাকা খুঁজতে ছিলাম। পাই নি।
এর পর গুলশানে এসে টাকা এক্সেঞ্জ করে নিলাম।
হেঁটে হেঁটেই তারপর গুলশান থেকে নতুন বাজারের দিকে রওনা দিলাম। ঐখান থেকে বাসে করে এয়ারপোর্ট যাওয়ার জন্য।
পথে মামা বলে আপনার হাতে কি লেগেছে। দেখি অনেক গুলো ময়লা লেগে আছে হাতে। ঢাকার কাকের কুকর্ম হতে পারে।
আমি হাতা ঘুটিয়ে নিলাম। মামাকে জিজ্ঞেস করলাম আর কোথায় ও আছে। মামা বলে নেই।
নতুন বাজার এসে চিন্তা করলাম কিছু খাওয়া দরকার। ভাল কোন হোটেল নেই ঐ দিকে। চিন্তা করলাম বুমার্সে খাওয়া যেতে পারে। হাটতে থাকলাম। বুমার্স কাছে আসে না… অনেকক্ষণ পর হেটে হেটেই বুমার্সে পৌছালাম। গিয়ে অর্ডার দিলাম।
ওরা বলে স্যার আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। ১০ মিনিট এর মত। রিপোর্টিং টাইম ১১টায়। ঘড়িতে তখন ১১.৩০ এর মত বাজে।
১২টায় গিয়ে এয়ারপোর্ট পৌছালাম। এয়ারপর্ট এসে সবার সাথে দেখা হল। সবার জন্য গেঞ্জি তৈরি করা হয়েছে। একটা গায়ে দিলাম। ময়লা সহ সার্ট ব্যগে রাখলাম।
বোর্ডীং এ গিয়ে টিকেট নিলাম। এর পর ইমিগ্রেশন করলাম। এর কিছুক্ষণ পর নামাজ পরে বিমানের জন্য ঢুকলাম। প্রথম বিমানে উঠা… স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Shahjalal International Airport এ আমি
বিমানে আমার সিট পড়েছে জানালার একটু পাশেরটার পরের টায়। আমি জানালার পাশেরটায় বসে গেলাম।
উনার সাথে সিট এক্সচেঞ্জ করে নিলাম। কিছুক্ষণ পরই বিমান ফ্লাইট করল।
বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভেতর
আস্তে আস্তে সব কিছু ছোট হতে লাগল। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢাকাকে হারিয়ে ফেললাম। এর পর গ্রামের উপর দিয়ে, পাহাড়ের উপর দিয়ে নেপাল এসে পৌঁছালাম।

উপর থেকে বড় বড় নদী গুলকে কেমন জানি অনেক ছোট লাগত। রাস্তা গুল অনেক চিকন লাগত। ঘর বাড়ী কিছুই বুঝা যাচ্ছিল না। টিনের ঘর থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে কিছুটা বুজা যেতো…

বাসা থেকে এয়ারপোর্ট যেতে লেগেছে ২ ঘণ্টার ও বেশি। আর এয়ারপোর্ট থেকে নেপাল আসতে লেগেছে মাত্র ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট।
২টা ১০ এ রওনা নিয়ে ৩টা ১০ এ পৌঁছিয়েছি।
নেপালের ত্রিভূবন এয়ারপোর্টের সামনে
নেপাল আসার পর নেপালের রোটারি ক্লাবের সহকারী প্রেসিডেন্ট আমাদের গ্রহণ করল। আমাদের সবার জন্য একটি করে সিম নিয়ে আসলো। এর পর আমরা অন্যদের জন্য অপেক্ষা করলাম, যারা বাংলাদেশ থেকে ভিসা করে আনে নি। তারা ভিসা করল। আমরা রওনা দিলাম বান্দিপুরের দিকে।
প্রায় চার ঘণ্টায় আমরা বান্দিপুর এসে পৌছালাম। তখন প্রায় রাত ১২টা বাজে।
বান্দিপুর এসে দেখি আমাদের জন্য এরা ফুল নিয়ে অপেক্ষা করছে। আমাদের গ্রহণ করার জন্য। নেপালিরা আমাদের ফুল দিয়ে অভর্থনা জানালো। আমাদের কপালে টিপ দিলো। পরে জানলাম নেপালিরা সন্ধ্যা ৮টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ে। আমাদের জন্য ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে জেনে ভালোই লাগল।
আমাদের রিসিভ করা হচ্ছিল
এর পর বাসায় এসে খাওয়া দাওয়া করলাম। ভাত, সবজি, শাক, ডাল এমন কিছু। খেয়ে এসে দিলাম ঘুম। ছিলাম হোমস্টে তে। নিজের বাড়ির মত। সকালে উঠলাম।
দ্বিতীয় দিন।
সকালে আমাদের জন্য রুটি, ডিম অমলেট আর বাজি ছিল। খেলাম। খেয়ে এখানে একটা পাহাড়ে উঠলাম। যেখান থেকে সুন্দর করে এভারেস্ট দেখা যায়।
পাহাড়ের উপর থেকে বান্দিপুর
নেপালিরা সকাল ৯টায় নাকি দুপুরের খাবার খায়। আমরা ঐখান থেকে নেমে এসে দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম। যদিও আমাদের খেতে ১১. ৩০ এর মত লেগেছে।
সিদ্বা গুহা যাওয়ার পথে
খেয়ে দেয়ে আমরা রওনা দিলাম সিদ্বা গুহা দেখার জন্য। অনেক দূর পাহাড় থেকে নামতে হয়েছে। এটা এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় গুহা।
সিদ্বা গুহার সামনে
চারদিকে পাহাড় আর পাহাড়। প্রায় দুই ঘণ্টার মত আমাদের হাঁটতে হয়েছে ঐখানে পৌঁছাতে।
সিদ্বা গুহার সামনে
গুহার ভেতরে ঢুকে আমরা এক মিনিট নীরবতা পালন করলাম। সব লাইট বন্ধ করে দিলাম। অন্ধকারের মধ্যে আমরা সবাই চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে থকলাম। অসাধারণ একটা অভিজ্ঞতা। যদি নীরবতা পালনের সময় অনেকেই আস্তে আস্তে হেসে দিচ্ছিল… জানি না কেন…
আসার সময় কেউ যে পথে গিয়েছি ঐ পথে আসছে। আর কেউ পাহাড় থেকে নিচের দিকে নেমে এসে বাসে করে চলে আসল আবার বান্ধিপুর। আমি বাসে করে আসছি।
রাতে এখানে এসে চাওমিন খেয়ে ঘুমিয়ে গেছি। এখন সকাল। বসে বসে লিখছি।
তৃতীয় দিন।
আজ আমাদের এডভ্যান্সার অফিশিয়ালি শুরু হবে।
পেশা হিসেবে আমি ফ্রীল্যান্সার। যে কোন জায়গা থেকেই কাজ করত পারি। গত রাতে কিছু কাজ করার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু করতে পারি নি। টাইট সিডিউলের কারণে। রাতে এসে আর কাজ করার মত শক্তি থাকে না। আবার চিন্তা করতে হয় পরের দিন ভোরে উঠে সবার সাথে যেতে হবে। আজ ও জানি না করতে পারবো কিনা। ক্লায়েন্টে তো মহা খেপবে।
সকালে আমাদের দেরি হওয়ার কারণে সবার সাথে নাস্তা করা মিস করেছি। আমাদের দেরির কারণে আমাদের রেখে পুরো টিম চলে গিয়েছল। আমরা চারজন মিস করেছি। তাই নিজেরা নিজেরাই করে নিয়েছি। আমরা ডোনাট, নেপালি তরকারি [কিছুটা চটপটির মত] এবং চা খেয়েছি।
না, ছবি তুলবেন না 😛
এর পর সবার জন্য অপেক্ষা করেছি। সবার জন্য পলিও টিসার্ট ছিল। সবাই তা পরে পলিও এওয়ারনেস রেলিতে অংশগ্রহন করেছি।
পলিও এওয়ারনেস র্যালি
এর পর অফিশিয়াল অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল। আমি ছবি তুলেছি। সেখানে সাংকৃতিক অনুষ্ঠান ও হয়েছিল।
সাংকৃতিক অনুষ্ঠান
আমরা বাংলাদেশী সংকৃতি তুলে ধরেছি।
অনুষ্ঠান থেকে ফিরে খাওয়া দাওয়া করে কিছুক্ষণ ফেসবুকিং করলাম। এর পর বিকেলে একটু ঘুরতে বের হলাম।
ক্যাম্প ফায়ার
রাতে হলো ক্যাম্প ফায়ার। গান, নাচ ইত্যাদি। হলো বারবিকিউ পার্টি। তারপর বাসায় এসে ঘুম।
চতুর্থ দিন।
- Nulled
- Tech
- Job
- Hacking Course
- News
- Out Knowledge
- Status
- Quotes
- Caption
- Stories
- Education
- Shopping
- Entertainment
- Lifestyle
- Business
- Travel
- Opinion
- Art
- Causes
- Crafts
- Dance
- Drinks
- Film
- Fitness
- Food
- Games
- Gardening
- Health
- Home
- Literature
- Music
- Networking
- Other
- Party
- Religion
- Shopping
- Sports
- Theater
- Wellness

