Sponsored

প্রযুক্তির বিকাশ ও বাংলাদেশের অবস্থান | কমপিউটার জগৎ - Nettumi

0
3

বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বে বাড়ছে চতুর্থ প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার। বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের এসব প্রযুক্তি আগের তুলনায় আরও উন্নত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব। প্রশ্ন আসছে, এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান কী? নীতিনির্ধারকরা বলছেন, চোখ আছে প্রযুক্তির সবশেষ সংস্করণের দিকে। তবে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি কমিশনের অনুমোদনের পরই কেবল তা ব্যবহার করবে বাংলাদেশ।

রুশ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা যা বলছেন, তাতে সহজ ভাষায় দাঁড়ায়, অর্থনীতি—নিরাপত্তা আর পরিবেশগত দিক বিবেচনায় চতুর্থ প্রজন্মের প্রযুক্তি হবে আরও উন্নত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। কমাবে কার্বন নিঃসরণ। অত্যাধুনিক রিঅ্যাক্টর বা চুল্লি সক্ষম হবে আরও দক্ষতার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। জ্বালানির প্রাপ্যতা নিয়েও ভাবতে হবে না তেমন। ব্যবহৃত জ্বালানি স্পেন্ট ফুয়েল পুনরায় ব্যবহারের মাধ্যমে করা যাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন। রিঅ্যাক্টর বা চুল্লির আকৃতি ছোট হওয়ায় অল্প জায়গাতেই তৈরি করা যাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ পরিবর্তন আসছে সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি তরুণদের নানা উদ্যোগ আর প্রচেষ্টায়। তাঁদের হাত ধরেই দেশে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ছে। এতে দ্রুত বদলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন খাত। যেমন : এক তরুণ কুষ্টিয়ার প্রত্যন্ত এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান দিচ্ছেন। তিনি জানালেন, নিজের এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষক হিসেবে বেসিক কম্পিউটার, গ্রাফিকস ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্টের মতো নানা কাজ শেখানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি। তাঁর মতো অনেক তরুণই দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে রাখছেন বিশেষ ভূমিকা।

সম্প্রতি আর্মেনিয়ার বিসিজি সিনিয়র পার্টনার ও গ্লোবাল লিডার ফর ডিজিটাল গভর্নমেন্ট মিগুয়েল কারারসকো বলেন, প্রযুক্তি কর্মসংস্থান তৈরি করে। আগামী দিনে যে রকম কাজ হবে, এর ১০ শতাংশ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ২০ শতাংশ করবে প্রযুক্তি। বাকি ৭০ শতাংশের জন্য মানুষকেই লাগবে। অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম কোরসেরার বৈশ্বিক দক্ষতা সূচক বা ‘গ্লোবাল স্কিলস ইনডেক্স ২০১৯’ (জিএসআই) অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত দক্ষতার দিক থেকে অপারেটিং সিস্টেম, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো ক্ষেত্রে ভালো করছে বাংলাদেশ। ওই তালিকায় বাংলাদেশসহ এশিয়া—প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর পারফরম্যান্স তুলে ধরা হয়েছে। ওই সূচকে দেখানো হয়েছে, ৯০ শতাংশ উন্নয়নশীল অর্থনীতি এখন ক্রিটিক্যাল স্কিল বা জটিল দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে পেছনে পড়ে যাচ্ছে বা ঝুঁকিতে পড়ছে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত দক্ষতার ক্ষেত্রে ভালো করছে বাংলাদেশ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রস্তুতিতে এখনো পিছিয়ে বাংলাদেশ 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এআই প্রস্তুতি সূচকে ১৭৪টি  দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৩তম। ডিজিটাল অবকাঠামো, মানবপুঁজি ও শ্রমবাজার নীতি, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক একীকরণ, নিয়ন্ত্রণ ও নীতি— এই চারটি ভিত্তির ওপর সূচক তৈরি করা হয়েছে। এই সূচকে বাংলাদেশের থেকে এগিয়ে আছে ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া। আর কেনিয়া, রুয়ান্ডা, ঘানা, সেনেগালের মতো আফ্রিকার দেশগুলোও এই সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে। এআইয়ের প্রস্তুতিতে সূচকে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর।

এই সূচক প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক বলেন, এটা আসলে এআই ব্যবহারের অবস্থা নয়, প্রস্তুতির সূচক। এটা করা হয়েছে যাতে দেশগুলো তাদের পলিসি ও প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এখানে অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ, শ্রম আইন— এইসব বিষয় তারা বিবেচনায় নিয়েছে। তাতে স্পষ্ট—এআইর জন্য যে মানবসম্পদ দরকার, সেদিকে আমাদের উদ্যোগ তেমন নেই।

আইএমএফ বলছে, এআই উৎপাদনশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আয় বাড়াতে পারে। অনেক লোকের কর্মসংস্থান হতে পারে। তবে এটা বৈষম্যও বাড়াতে পারে, কাজও হারাতে পারেন অনেকে।

আইএমএফের গবেষণা অনুযায়ী এআই উন্নত অর্থনীতির দেশের ৩৩ শতাংশ, উদীয়মান অর্থনীতির দেশের ২৪ শতাংশ ও নিম্ন আয়ের দেশে ১৮ শতাংশ চাকরিকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। অন্যদিকে এআই বিদ্যমান চাকরির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনা নিয়ে আসছে। চাকরি হারানোর ঝুঁকি যেমন আছে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানও হবে। আর তার জন্য প্রয়োজন হবে উচ্চ দক্ষতা।

‘পাচশ'ও বেশি প্রতিষ্ঠান এআই নিয়ে কাজ করছে' বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে এআই এর ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ খাত,  মোবাইল ব্যাংকিং, মার্কেটিং। কৃষি খাতেও এর ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে জানান এআই নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান টেক গার্লিক এর প্রধান নির্বাহী জানান, বাংলাদেশে এখন পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠান আছে, যারা এআই এবং মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ করে। তবে প্রতিষ্ঠানের বাইরে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করেন— এরকম মানুষের সংখ্যা কমপক্ষে ১০ লাখ। বাংলাদেশে ২০০৮—৯ সাল থেকে এআই নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয় বলে জানান তিনি।

মোবাইল ফোন কোম্পানি, মোবাইল ব্যাংকিংসহ অনেক কর্পোরেট হাউজ এখন এআই টেকনোলজির সুবিধা নিচ্ছে। বাংলাদেশের কৃষিখাতেও এর ব্যবহার শুরু হয়েছে।' তার প্রতিষ্ঠানটি কৃষিখাতে জলসেচের জন্য এআই প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করছে।

বাংলাদেশের সব খাতেই এআই এর সম্ভাবনা আছে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে এআই এর ব্যবহার অনেক ক্ষতি থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে।

আমাদের এখানে যারা কাজ করেন, তারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই প্রযুক্তি আয়ত্ত করছেন। প্রতিদিনই এটা পরিবর্তন হয়। অর্থাৎ এটা একটা সার্বক্ষণিক শিখন প্রক্রিয়া। দক্ষতা ও প্রচণ্ড আগ্রহ না থাকলে এটা সম্ভব নয়। আবার এই খাতে বিনিয়োগ করতে ব্যাংক ঋণও তেমন পাওয়া যায় না।

‘সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা দরকার'। এখন মার্কেটিংয়ে দেশীয় এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এআই ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পাচ্ছে। তবে আমাদের মাইন্ডসেটের এখনো তেমন পরিবর্তন আসেনি। আগে যখন কম্পিউটারের ব্যবহার শুরু হয় তখন চাকরি যাওয়ার ভয়ে অনেকে কম্পিউটার ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করতো। এখনো আমরা দেখছি বিমান বাংলাদেশের ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়ার পরে কম্পিউটার বন্ধ করে রেখেছে। আসলে নতুন টেকনোলজিকে ওয়েলকাম করতে হবে।

এজন্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। ভারত সরকার গত এগ্রিল মাসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এআই কোম্পানির কাছে এক লাখ গ্রাফিক প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) অর্ডার করেছে। জিপিইউ হলো এআই—এর কাঁচামাল। আর আমরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে এগুলো ইউএসএ বা সিঙ্গাপুর থেকে আনি। আমাদের প্রচুর ডলার খরচ হয়। সরকার যদি একটা এআই সেন্টার করে জিপিইউ এনে আমাদের কাছে ভাড়া দেয় তাহলে আমরা উদ্যোক্তারা লাভবান হবো।

এআই কোনো স্পর্শযোগ্য পণ্য বা বস্তু নয়। বাংলাদেশের ব্যাংক খাত এই পণ্য উৎপাদনের জন্য ঋণ দেয় না। তারা দেয় হার্ডওয়্যারের জন্য। ফলে আমরা ঋণ পাই না। আমাদের নানাভাবে অর্থ জোগাড় করতে হয়। সরকারের এটা দেখা দরকার। তারপরও বাংলাদেশের সাত—আটটি প্রতিষ্ঠান এখন দেশের বাইরেও এআই সলিউশন দিচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রস্তুতি?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আসলে এখনো এআই প্রযুক্তির জন্য প্রস্তুত নই। আমরা এখনো ডিজিটাল বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রযুক্তির তৃতীয় যুগে যেতে হলে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত তরুণ লাগবে। সেই ব্যবস্থা আমাদের এখানে নেই, প্রতিষ্ঠান নেই। আবার যারা তৈরি হচ্ছে, তাদের আমরা ধরে রাখতে পারছি না, তারা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাদের ধরে রাখার ব্যবস্থা যেমন করতে হবে, তেমনি এআই আমাদের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষায় যুক্ত করতে হবে।

আমাদের পাশের দেশে এআই নিয়ে অনেক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে সরকার নানাভাবে সহায়তা করছে। কিন্তু আমাদের এখানে হচ্ছে না। তরুণ গবেষকদের ফান্ড দিতে হবে। মনে রাখতে হবে ওয়েবসাইটের ডিজাইন তৈরির দক্ষতা আর এআই এর দক্ষতা এক নয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য শর্ট টার্মে কিছু প্রশিক্ষণ দিলেই হতো। কিন্তু এখানে সেটা সম্ভব নয়। আমাদের টেকনোলজি তৈরি করতে হবে। সেই দক্ষতা লাগবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি হলো তাকে যে তথ্য দিয়ে রেডি করা হবে সে সেই ভাবে বিশ্লেষণ করবে। তার চিন্তা মানুষের মতো না। ফলে তাকে দিয়ে গুজব ছড়ানো বা একপেশে বিশ্লেষণ করানো সম্ভব।

অ্যামাজন তাদের একটি টেকনিক্যাল রিক্রুটমেন্টের সিভি বাছাইয়ের জন্য মানুষের পরিবর্তে এইআইকে দায়িত্ব দেয়। তখন দেখা গেলো শুরুতেই এআই সব নারীর সিভি বাদ দিয়ে দেয়। আসলে তাকে যেভাবে প্রশিক্ষিত করা হয় সে সেইভাবে ফল দেয়। সুতরাং এআই ব্যবহারের নানা ঝুঁকিও আছে। সেটা অবশ্য নির্ভর করে মানুষের ওপর। আমরা কীভাবে ব্যবহার করতে চাই। এটা ক্ষতিকর কাজেও ব্যবহার করা যায়।

আইন তৈরির উদ্যোগ

বাংলাদেশ সরকার এরইমধ্যে এআই নিয়ে একটি আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে। খসড়া আইনটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ে আছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, আইন অবশ্যই এর অপব্যবহার রোধে প্রয়োজন। একই সঙ্গে এআই এর জন্য অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ, প্রযুক্তিগত সহায়তা অনেক বেশি প্রয়োজন।

সম্প্রতি আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে সরকারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক জিপিটি প্ল্যাটফর্ম জি—ব্রেইন—এর উদ্বোধন করেছেন। স্টার্টআপ জিপিটি, কনস্টিটিউশন জিপিটি ও বাজেট জিপিটি এই তিনটি ফিচার নিয়ে উদ্বোধন করা হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সরকারের জিপিটি প্ল্যাটফর্ম। 

মৎস্য আহরণে স্মার্ট প্রযুক্তির সফলতা

গভীর সমুদ্রে মৎস্য শিকারে এসেছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। গভীর সমুদ্রে মৎস্য শিকারে এসেছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৎস্য শিকারের ফলে মৎস্যজীবীরা একদিকে যেমন অনেক লাভবান হচ্ছে অন্যদিকে সমুদ্রের সার্বিক পরিবেশ জলোচ্ছ্বাস, আবহাওয়া, তাপমাত্রা ইত্যাদি জানার পাশাপাশি স্থলভাগে মৎস্য ঘাটে, মাছের বাজার দর এবং  পরিবার—পরিজনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও গ্লোবাল ফিশিং ওয়াচ, ফিশ ফাইন্ডার, ইকো সাউন্ডার, অ্যাকোয়াস্টিক ক্যামেরা ইত্যাদি আধুনিক প্রযুক্তি মৎস্য শিকারে ব্যবহৃত হচ্ছে। আরও আছে ওফিশ অ্যাপ, রিমোট কনট্রোল অপারেটেড ফিশ ফিডার, অটোমেটিক পদ্ধতিতে পানির গুণাগুণ নির্ণয়, স্মার্ট সেন্সর, স্মার্ট আন্ডারওয়াটার ক্যামেরা, গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) প্রযুক্তি।

গ্লোবাল ফিশিং ওয়াচ : ইন্টারনেট অ্যাক্সেসসহ বিশ্বব্যাপী মাছ ধরার কার্যকলাপ নিরীক্ষণ করতে এবং ব্যক্তিগত জাহাজের ট্র্যাক, সামুদ্রিক ফিশিং ও সুরক্ষিত এলাকা এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলো দেখতে সক্ষম। সমুদ্রে অতিরিক্ত মাছ ধরা, অবৈধ মাছ ধরা এবং মাছের আবাসস্থল ধ্বংস  হচ্ছে কিনা এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্ণয় করা সম্ভব। গুগলের সহায়তায় প্রযুক্তিটি ২০১৬ সালে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওয়াশিংটন ডিসিতে মহাসাগর সম্মেলনে স্থাপন করা হয় এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা—নিরীক্ষা শেষে ২০১৭ সালে একটি স্বাধীন ও অলাভজনক সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। 

গ্লোবাল ফিশিং ওয়াচ মাছের সংগৃহীত তথ্য ভিজুয়ালাইজ করে ৭২ ঘণ্টা পর ইন্টারনেটে প্রকাশ করা হয়। এই ভিজুয়ালাইজেশনে প্রবেশাধিকার সবার জন্য উন্মুক্ত। অর্থাৎ যে কেউ এই তথ্য ব্যবহার করতে পারে। সংগৃহীত তথ্য দিয়ে একটি মেরিন ডেটা ব্যাংক তৈরি করা হয়, যেখানে সাগরের তাপমাত্রা, পানির লবণাক্ততা ও অক্সিজেনের মাত্রা ইত্যাদি তথ্য জমা থাকে।

গ্লোবাল ফিশিং ওয়াচের এই উদ্যোগ অবৈধভাবে মৎস্য আহরণকারী  ভেসেলগুলোর মালিক ও ক্যাপ্টেনদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক ভূমিকা রাখছে। ফিশ ফাইন্ডার এবং ইকো সাউন্ডার : গভীর সমুদ্র তলে মাছ শনাক্ত করার ডিজিটাল প্রযুক্তি। এটি শোনার মতো শব্দশক্তির মাধ্যমে পানির ভেতরে উচ্চ তরঙ্গ তৈরি করে গ্রাফিক্যাল ডিসপ্লেতে প্রতিফলিত শব্দের পরিমাপ প্রদর্শন করে এবং সুমদ্রে মাছের অবস্থান শনাক্ত করতঃ স্মার্টফোনের মাধ্যমে প্রতিচিত্র পাঠায়।

এক্ষেত্রে স্মার্টফোন ও  ফিশ ফাইন্ডারের মধ্যবর্তী দূরত্ব ১৫০ ফুট হতে হয়। কারণ এই রেঞ্জের মধ্যে ব্লুটুথ ভালোভাবে তথ্য আদান—প্রদান করতে পারে। মাছের অবস্থান নির্ণয় ছাড়াও, ফিশ ফাইন্ডার দিয়ে পানির গভীরতা এবং তাপমাত্রা জানা যায়। আধুনিক ইলেকট্রনিক ফিশ ফাইন্ডার সিস্টেম, সামুদ্রিক রাডার, কম্পাস এবং জিপিএস নেভিগেশন সিস্টেমের মধ্যে একটি ইন্টিগ্রেটেড ডিভাইস। সিস্টেমটি মাছের অবস্থান নির্ণয় ছাড়াও পানির নিচের কাঠামো সম্পর্কে রিয়েল—টাইম তথ্য প্রদান করে। ফলে মাছ ধরার সম্ভাবনাকে উন্নত, সময় ও শ্রম বাঁচাতে সহায়তা করে।

আন্তর্জাতিকভাবে পানির গভীরতা নির্ণয় করার জন্য জাহাজে ব্যবহৃত ইকো সাউন্ডারকে প্রায়শই ফ্যাদোমিটার বলা হয়। কারণ সমুদ্রে পানির গভীরতা পরিমাপের একক হিসেবে ফুটের পরিবর্তে ফ্যাদম ব্যবহৃত হয়।


"প্রযুক্তির বিকাশ ও বাংলাদেশের অবস্থান | কমপিউটার জগৎ" সম্পর্কে লেখাটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং আপনার মতামত কমেন্টে জানান। এমন আরও আপডেটের জন্য Nettumi-এর সাথেই থাকুন।

Sponsored
Sponsored
Search
Categories
Read More
Job
মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রি শুরু হতেই ক্র্যাশ করল সাইট, দুই ঘণ্টার মধ্যে টিকিট শেষ
Login
By Nettumi 2026-09-25 09:14:09 0 106
Tech
সেরা ৫টি অসাধারণ Chrome Extensions যেগুলো আপনার লাইফকে আরো সহজ করে দিবে | Techtunes | টেকটিউনস
টেকটিউনস এর সাথে যুক্ত হোন আরো নিবিড়ভাবে [Super Tune+Updated] আব্দুর রহিম
By Nettumi 2026-09-25 03:50:04 0 46
News
ককপিটে সহকারী পাইলটের হামলা, ১২ মিনিটের লড়াইয়ে বাঁচল ১৭৪ প্রাণ
Login
By Nettumi 2026-10-03 18:18:41 0 1K
Hacking Course
স্মার্টফোনে সেরা পারফর্মেন্স পেতে করণীয়
আমরা স্মার্টফোন ব্যবহার করতে করতে অনেক সময় ভুলে যাই যে আসলে আমরা হাতে একটা ছোট কম্পিউটার নিয়ে...
By Nettumi 2026-09-25 09:55:55 0 63
Nulled
Spescho v1.0 - Special School IEP and Therapy Software
Spescho v1.0 – Special School IEP and Therapy Software PHP Script Free Download. Spescho...
By Nettumi 2026-09-17 18:25:40 0 84
‎ ‎ ‎
Nettumi https://nettumi.com