দুবাই ভ্রমণ - ডেজার্ট সাফারি এবং স্কাইডাইভ
ভিসা এবং ফ্লাই
স্কাইডাইভের জন্য খুব সুন্দর একটা জায়গা হচ্ছে দুবাই। দুবাই স্কাইডাইভের ভিডিও প্রায় সময়ই দেখতাম ভাবতাম আমিও একদিন ট্রাই করব। আল-আমিন ভাই দুবাই গিয়েছে ঘুরতে। উনাকে নক দিয়েছি জানার জন্য ভিসা কিভাবে পাওয়া যায়। উনি একটা লিঙ্ক দিল। দেখলাম ভিসা পাওয়া সহজ। হানিমুন ট্যুরস এবং ট্রাভেলস ভিসা প্রসেস করে দেয়। ১০৯০০ টাকা ভিসা প্রসেসিং ফি, আর সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে দেড় লক্ষ টাকা জমা দিতে হয়। যা দুবাই থেকে ঘুরে ফিরে আসলে ফেরত দেওয়া হবে। যে নিউজ দেখে গিয়েছি ওদের ঐখানে, দেখলাম ঐখানে লেখা ছিল ৩০ মিনিটেই ভিসা দেওয়া হয়। বাস্তবে আসলে আমাকে ১৮ দিন পর ভিসা দিয়েছে। এয়ার টিকেট ও ওদের থেকেই নিয়েছি। রিটার্ণ টিকেট ৪০ হাজার টাকায়। এমিরেটসে আসার ইচ্ছে ছিল, জেট এয়ারে এমিরেটস থেকে কম টাকা লেগেছিল টিকেট কিনতে। সমস্যা একটাই। কানেক্টিং ফ্লাইট। দুবাই যাওয়ার সময় দিল্লিতে স্টপেজ আর দুবাই থেকে ফেরার পথে মুম্বাইতে স্টপেজ।
আমি ভিসা পাওয়ার পর দেখলাম আরো অনেক ট্রাভেল এজেন্সিই দুবাই ভিসা করে দেয়। ভিসা করতে শুধু পাসপোর্ট আর এক কপি ছবি লাগে। এক এক ট্রাভেল এজেন্সি প্রসেসিং ফি এক এক রকম নেয়।
আমার ফ্লাইট ছিল ২৯ তারিখ, সকাল দশটায়। আমি সকাল সকাল রওনা দিলাম এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে। উবারে করে। সিএনজি থেকে উবার পাওয়া সহজ, কিছু কিছু ক্ষেত্রে খরচ ও কম।
এয়ারপোর্ট এসে বোর্ডিং পাস নেওয়ার জন্য অপেক্ষা। বোর্ডিং পাস নেওয়ার সময় এয়ারলাইন্সের কর্মী সব চেক করল। আমি রিটার্ণ টিকেট কেটেছি কিনা, হোটেল রিজার্ভেশন রয়েছে কিনা, কোন কোন দেশে ঘুরেছি সব। এরপর বোর্ডিং পাস দিল। বোর্ডিং পাস নেওয়ার পর ইমিগ্রেশন।
ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়ানোর পর দেখলাম কারেন্ট চলে গেলো। কারেন্ট চলে যাওয়ার পর ইমিগ্রেশনও বন্ধ। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম। এরপর কারেন্ট আসল। যখন ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে গেলাম, আমাকে একদিক দেখিয়ে বলল ঐখানে স্যারের সাথে কথা বলেন। ঐখানে গেলাম। প্রশ্ন করা শুরু করল। কি করি, কোথায় যাবো, কেনো যাবো, বাবা কি করে, ভাই কি করে, কোথায় থাকি, টাকা পেলাম কই, আমি এত বড় চাকরি করেও দুবাই ঘুরতে যেতে পারি না, আপনি কেমনে যান? ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রশ্ন করতে করতে কারেন্ট আবার গেলো। ইমিগ্রেশন অফিসার এবার তার পরিচিত কয়েক জন আসছে, তাদের সাথে গল্প শুরু করল। আমি দাঁড়িয়ে থাকায় বলল কারেন্ট নেই, এখন চেক করা যাবে না, দেরি হবে।
আমি আরো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে কারেন্ট আসার অপেক্ষা করলাম। বোর্ডিং এর সময় হয়ে যাচ্ছে। পরে বললাম চাইলে মোবাইলেই ভিসা চেক করা যায়। বলল আপনার মোবাইলে চেক করে দেখান। আমি দেখালাম। এরপর উনি অন্য আরেকজনকে বলল, প্যাসেঞ্জার অনেক স্মার্ট, নিজে নিজেই চেক করেছে। ঐ ইভিসার প্রিন্ট কপির শেষে লিখে দিল ওকে পাস… আমি আবার ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে গেলাম। এরপর ডিপারচার সিল মেরে দেওয়ার পর বড় একটা দির্ঘশ্বাস ফেললাম। যাক বাবা, একটা ইমিগ্রেশন পার হয়েছি। দুবাই ইমিগ্রেশনে আবার কি কি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়, আল্লাহ জানে!
আমাদের ফ্লাইট ছিল ১০টায়। ঢাকা থেকে দিল্লি। সময় মতই বিমানে উঠেছি আমরা। কিন্তু কিছুক্ষণ পর শুনি বিমানের পাওয়ারে কোন সমস্যা। তাই দেরি হচ্ছে। এরপর আরো কিছুক্ষণ পর জানালো ঠিক করা হয়েছে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই টেকঅফ করবে। কিন্তু টেকঅফ করতে গেলে এবার শুরু হয় ঝড় বৃষ্টি। পাইলট জানালো ফ্লাই করার জন্য সব প্রস্তুত। কন্ট্রোল রুম থেকে অনুমতি দিলেই ফ্লাই করবে। এভাবে অনেকক্ষণ বসে থাকতে হলো। ১০টার ফ্লাইট ১২টায় ছাড়ল। তাও ছেড়েছে। এর থেকে বেশি দেরি হলে দিল্লি থেকে দুবাই এর ফ্লাইট মিস করতে হতো।
দিল্লি পৌছার পর দেখলাম দুবাই এর ফ্লাইট এর সময় প্রায় এক ঘণ্টা বাকি। সিকিউরিটি চেক, বোর্ডিং গেটে যেতে যেতেই প্রায় আধাঘণ্টা শেষ হয়ে গেলো। এরকিছুক্ষন পরই বোর্ডিং। বিমানে উঠে রওনা দিলাম দুবাই এর দিকে। ঠিক মতই সব কিছু সম্পর্ণ হলো।
দুবাইতে প্রথম দিন – রবিবার – ২৯ এপ্রিল
দুবাই এয়ারপোর্টে নেমে নামাজ পড়ে নিলাম। ছোট ছোট নামাজের রুম রয়েছে। এরপর গেলাম ইমিগ্রেশনের দিকে। বিশাল একটা লাইন। সম্ভবত অনেক গুলো বিমান এক সাথে ল্যান্ড করেছে। আস্তে আস্তে এগুতে থাকলাম। ভাবছিলাম এখানে কি আবার জিজ্ঞেস করে। ইমিগ্রেশন অফিসারের দিকে পাসপোর্ট আর ই-ভিসার কপি দেওয়ার পর আমাকে বলল ক্যামেরার দিকে তাকাতে। ক্যামেরার দিকে তাকানো পর বলল বড় বড় করে তাকাতে। আমি যতটুকু পারা যায় বড় করে তাকাচ্ছি। কিন্তু এরপর ও আবার বলল বড় করে তাকাতে। আমি চোখ বড় করে তাকানোর চেষ্টা করলাম। এরপর জিজ্ঞেস করল নাম কি? আমি বললাম। এরাইভাল সিল মেরে পাসপোর্ট এবং ভিসা কপি রিটার্ণ দিলো। আর কিছুই জিজ্ঞেস করল না বা চেক করল না।
আমি এয়ারবিএনবিতে হোস্টেল বুকিং দিয়েছিলাম। তা হচ্ছে ক্যাপিটাল টাওয়ার নামক একটা বিল্ডিং এ। দেশে থাকতে গুগলে সার্চ করে জেনে রেখেছিলাম কিভাবে পৌঁছানো যায়। এয়ারপোর্ট থেকে মেট্রো ট্রেন রয়েছে। মেট্রো ট্রেন থেকে নেমে একটা বাসে উঠলেই এখানে পৌঁছানো যাবে। এয়ারপোর্ট এসে মেট্রো ট্রেনের টিকেট কাউণ্টার থেকে টিকেট কেটে নিলাম।
প্রথম দিকে একটু বুঝতে কষ্ট হচ্ছিল কোন দিক না কোন দিক যাবো। পরে মেট্রো ট্রেন কোন দিকে যায়, স্টপেজ কোনটা কোথায়, ইত্যাদি দেখে নেওয়ার পর সব পরিষ্কার হলো। মেট্রো ট্রেনে উঠে পড়লাম। মেট্রো থেকে রাতের শহর দেখা যাচ্ছিল। দেখা যাচ্ছিল ব্যস্ত দুবাই। বিশাল বিশাল বিল্ডিং গুলো। এক সময় বুর্জ খলিফাও নজরে পড়ল। আস্তে আস্তে গন্তব্যে চলে আসলাম। মেট্রো থেকে নেমে ৫ মিনিটের মত হেঁটে মেট্রো স্টেশন থেকে বের হলাম। বের হওয়ার পরই দেখলাম যে বাসে উঠতে হবে, তা দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঐটাতে উঠে পড়লাম। এক মিনিটেই পরের গন্তব্য। মেট্রোর টিকেট যেটা কিনেছি, ঐটা এই বাসেও ব্যবহার করা গেলো। পরের স্টপেজে নেমে গেলাম। এরপর আমার হোস্টেল খুঁজে বের করলাম।
ছোট্ট একটা রুমে আটটা বেড। দুবাই সিঙ্গেল রুম মোটামুটি কস্টলি। এয়ারবিএনবি থেকে এই হোস্টেল খুঁজে পেয়েছি। ব্যাকপ্যাকারদের জন্য চমৎকার। ঘুমানোর যায়গা ছোট হলেও ড্রয়িং রুম বড় রয়েছে, কিচেন, আড্ডা দেওয়ার রুম সহ রিলাক্সে থাকার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে।
ব্যাকপ্যাক রেখে বের হয়ে পড়লাম। এশার নামাজ পড়তে হবে। একটু খুঁজে মসজিদ বের করলাম। বিশাল একটা মসজিদ। সুন্দর করে সাজানো। নামাজ পরে এরপর মনে হলো খেতে হবে। চারপাশে প্রচুর রেস্টুরেন্ট রয়েছে, রয়েছে সুপারশপ। Broccoli নামে একটাতে ঢুকলাম। এরপর পাস্তা দিয়ে রাতের খাবারের কাজ সেরে নিলাম। সমস্যা হচ্ছে এত গুলো পাস্তা দিয়েছে যে আমার অনেক সময় লেগে গিয়েছে খেতে। খাওয়া দাওয়া করে হোস্টেলে এসে ঘুমিয়ে পড়লাম।
সোমবার
সকালে ঘুম থেকে উঠে সিম কিনতে বের হয়েছি। ইন্টারনেট ছাড়া কোথাও যাওয়া কষ্ট। গুগল ম্যাপের জন্য হলেও ইন্টারনেট দরকার। আমি DU এর কেয়ারে এসে একটা সিম কিনে নেই। সিম ৫৮ দিরহামের মত আর সাথে ১১০ দিরহাম নিয়েছি নেট কেনার জন্য। এখানে মোবাইল ইন্টারনেট আমাদের তুলনায় অনেক কস্টলি। সিম কিনে রওনা দিলাম বীচ এরিয়ার দিকে। রক্সি থিয়েটারের কাছে। ইনফিনিটি ওয়ার মুভিটি দেখার জন্য।
সকাল সাড়ে দশটা তখন। নাস্তা করা হয়নি। একটা রেস্টুরেন্টে বসে নাস্তা করে নিলাম। টাকস সম্ভবত নাম। ডিম, মাংস এবং ভাত। এরপর মুভি থিয়েটারে গিয়ে টিকেট কেটে নিলাম। থিয়েটারের দরজা আমি নক করার পরই খুলল। আমিই প্রথম টিকেট কাটলাম। এরপর বীচ পাড়ের দিকে চলে গেলাম। বীচ পাড়ে অনেক মানুষ। অনেকেই ট্যান নিচ্ছে রোঁদে শুয়ে। দাঁড়িয়ে থাকার উপায় নেই। প্রচুর গরম। আমি কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে একটা ক্যাফেতে বসলাম। ফ্রেস জুস অর্ডার দিলাম। এখানে প্রচুর পর্যটক। জুস খেতে খেতে সমুদ্র এবং মানুষ দেখতে লাগলাম, নানান রঙের মানুষ।
JBR Beach
মুভির সময় হলে মুভি দেখতে চলে আসি। মুভি দেখে বের হয়ে নামাজ পড়ার জন্য মসজিদ খুঁজে বের করি। এরপরের গন্তব্য হচ্ছে স্কাইডাইভ দুবাই। পথে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকি। আল শরাফ নামে। দুপুরের খাবার খেতে হবে। একটা সেট মেনু অর্ডার দেই। গত রাতে একবার পাস্তা অর্ডার দিলে বিশাল এক বাটি পাস্তা দেয়। অনেক কষ্ট হয় শেষ করতে। আজ আবার দেখি অনেক গুলো খাবার দিয়ে গেলো।
রেস্টুরেন্ট এর ওয়েটার গুলো খুবি সুইফট। দ্রুত সব করে। একটা টিস্যু ফেললে তাও দ্রুত সরিয়ে নেয়। খাওয়া দাওয়া করে বের হলাম।
গেলাম স্কাইডাইভ এর দিকে। ওদের ঐখানে গিয়ে জানতে চাইলাম অনস্পট বুকিং করা যায় কিনা। জানালো অনলাইনে করতে হয়। অনলাইনে করলে সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিন আগে করে রাখতে হয়। কারণ শিডিউল পাওয়া যায় না, তাই। এ জন্যই অনস্পটে গিয়েছিলাম। জানালো চাইলে যে দিন স্কাইডাইভ দিব, ঐদিন গিয়ে অপেক্ষা করতে পারি। কেউ কোন কারণে স্কাইডাইভ না দিলে তার স্পটে দেওয়ার সুযোগ হবে। কিন্তু তার কোন গ্যারান্টি নেই। সারাদিন নষ্ট হতে পারে। তাই অনলাইনে বুকিং দিলেই ভালো হবে।
অনলাইনে বুকিং দিতে গেলে ১০০০ দিরহাম কেটে নিবে কার্ড থেকে। বাকিটা যে দিন স্কাইডাইভ, ওইদিন দেওয়া যাবে। তাদের ওয়েব এড্রেস skydivedubai.ae।
স্কাইডাইভ দুবাই
কোন এক্সপেরিয়েন্স ছাড়া যে স্কাইডাইভ দেওয়া যায়, তা হচ্ছে Tandem skydive। যেখানে একজন ইন্সট্রাকটরের সাথে আপনি জাম্প দিবেন। Tandem skydive দেওয়ার দুইটা লোকেশন রয়েছে এদের। একটা হচ্ছে ডেজার্টে আরেকটা হচ্ছে পাম ড্রপ জোনে। পাম ড্রপ জোন থেকে দুবাই এর সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়, দেখা যায় পাম জুমাইরা, ওয়ার্ল্ড আইল্যান্ড ইত্যাদি। পাম জুমাইরাতে প্রাইস ও বেশি, তারপরও আমি পাম ড্রপজোনে স্কাইডাইভ করার জন্য বুকিং দিয়ে রাখি অনলাইনে।
মঙ্গলবার
সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে নিলাম। আমাদের হোটেলের এখানেই ব্রেকফাস্ট করা যায়। দশ দিরহামে ব্যুফে নাস্তা। দারুণ সব আইটেম। অনেক গুলো ফ্রেশ ফ্রুট ছিল। সেগুলো বেশি ভালো লেগেছে।
নাস্তা করে রওনা দিলাম Al Barsha Pond পার্কের দিকে। পার্কটা মোটামুটি বড়। ভেতরে একটা বড় সড় পুকুর, দিঘী বলা যায় । চারপাশে সবুজ গাছপালা। দুবাইতে যে জিনিসটা সবচেয়ে এক্সপেন্সিভ মনে হয়, তা হচ্ছে এই সবুজ গাছ। এগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয় সারাক্ষণ। পুকুরের চারপাশে দৌড়ানোর জন্য ট্র্যাক রয়েছে। পার্কে বিভিন্ন ফুল গাছে সুন্দর সব ফুল ফুটে রয়েছে। দেখতে ভালো লাগে।
Al Barsha Pond পার্কের এক পাশে
পার্কে কিছুক্ষণ থেকে রওনা দিলাম এমিরেটস মলের দিকে। মোটামুটি বড় সড় একটা শপিং মল। আমাদের বসুন্ধরা সিটি বা যমুনা ফিউচার পার্কের মতই। মলে ঘুরাঘুরি করলাম কিছুক্ষণ। জামা কাপড়ের দাম দেখলাম। একটা টি সার্টের টাকা দিয়ে ঢাকা থেকে দুবাই এয়ারফেয়ার হয়ে যাবে। সেই তুলনায় বাংলাদেশে আমরা দারুণ সব জামা কাপড় কিনতে পারি অনেক কম টাকায়। এখানে দেখলাম পার্কিং ছাদে। বিশাল এরা জুড়ে পার্কিং।
ডেজার্ট সাফারিতে যাওয়ার জন্য বুকিং দিয়ে রেখেছি। ৩টার দিকে রওনা দেওয়ার কথা। আমি এমিরেটস মলের ঐখানে কিছুক্ষণ থেকে উবার নিয়ে রওনা দিলাম হোটেলের দিকে। এখানে উবারে দারুণ সব গাড়ি পাওয়া যায়। এবার পেলাম Lexus ES। পাকিস্তানি ড্রাইভার। পাবলিক বাসও রয়েছে। বাসের খরচ ও অনেক কম। অটোমেটেড। মেট্রো বা বাসের জন্য কার্ড রয়েছে। উঠা নামার সময় সে কার্ড দিয়ে অটোমেটেড টাকা পে করা যায়। বাস গুলো খালিই থাকে। একটা কারণ হচ্ছে বাসে করে এদিক সেদিক যেতে প্রচুর সময় লাগে। মনে হয় না নষ্ট করার মত সময় এখানে যারা থাকে, তাদের রয়েছে। তাছাড়া যে সব বাস স্টপেজে কোন ছাউনি থাকে না, সেগুলোতে দাঁড়িতে থাকা কষ্টকর।
হোটেলে ফেরার কিছুক্ষণ পর ডেজার্ট সাপারির গাড়ি আসলে আমি উঠে পড়লাম। আরো দুই হোটেল থেকে ৪ জন গেস্ট নিল। এরপর রওনা দিলাম মরভূমির উদ্দেশ্যে। মরভূমির কাছাকাছি একটা জায়গায় থেমে গাড়ির চাকার হাওয়া কমিয়ে নিল। আমারা ঢাকা চট্রগ্রাম যাওয়ার পথে যেমন কুমিল্লা থামি, তেমন। ড্রাইভার বলল পানি বা জুস খেলে এখান থেকে খেয়ে নিতে পারি। গাড়ির চাকার হাওয়া কমিয়ে নেয়ার কারণ হচ্ছে বালিতে ড্রাইভ করার সময় যেন ভালো কন্ট্রোল পাওয়া যায়, সে জন্য। দুবাই শহরে এত গরম লাগেনি এই মরভূমির কাছে নেমে যত গরম লাগল। এত গরম যে বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক কষ্টের।
- Nulled
- Tech
- Job
- Hacking Course
- Art
- Causes
- Crafts
- Dance
- Drinks
- Film
- Fitness
- Food
- Juegos
- Gardening
- Health
- Home
- Literature
- Music
- Networking
- Other
- Party
- Religion
- Shopping
- Sports
- Theater
- Wellness