-
Fil d’actualités
- EXPLORER
-
Evènements
-
Blogs
-
Offres
-
Emplois
অপরূপ সুন্দর বালি দ্বীপ ভ্রমণ
বালি ভ্রমণের প্ল্যান এবং টিকেটিং
কোথাও ট্যুর দিতে ইচ্ছে করছিল। দেশে অনেক গুলো ট্যুর দেওয়া হয়েছে। পছন্দের লিস্টে আছে ইন্ডিয়ার শিলং, কাশ্মীর, থাইলেন্ড, সিঙ্গাপুর এবং মালদ্বীপ।
ঐদিন সাইদুর ভাইয়ের সাথে কথা বলতেছিলাম ট্যুর নিয়ে। সাইদুর ভাই বলল বালি থেকে ঘুরে আসতে। বলল আমার নাকি পছন্দ হবে। সমুদ্র আর পাহাড়, দুইটাই রয়েছে এক জায়গায়। যাওয়ার প্রসেস জানা শুরু করলাম। ইন্দোনেশিয়ায় ভ্রমণের জন্য ভিসা লাগে না। অন এরাইভাল ভিসা পাওয়া যায়। দরকার শুধু টিকেট আর হোটেল বুকিং। একটু সার্চ করে দেখি আসলেই সুন্দর জায়গা। ঐদিনই একটু সার্চ করে ভাবছি এয়ার টিকেট কাটব। পরে দেখি বাংলাদেশের ভিসা ডেভিড কার্ড দিয়ে কাটা যায় না।
আমার কাছে পেওনিয়ার কার্ড ছিল। ঐটাতে পর্যাপ্ত ডলার ছিল না। আর আমার সব গুলো কার্ডই লোকাল। ক্রেডিট কার্ড করতে ইচ্ছে করেনি অনেক গুলো কারণে। ক্রেডিট কার্ডে সাধারণত ডলার ব্যবহার করা যায়। EBL এর একুয়া কার্ড সম্পর্কে জানতাম আগে থেকে। ট্রাভেলিং এর জন্য জোস। এপ্লাই করলে একটা মাস্টার কার্ড দিবে। পরে ঐ কার্ডে টাকা ঢুকানো যাবে। দুইটা অপশন আছে। একটা হচ্ছে ডলার, আরকেকটা হচ্ছে টাকা। টাকা ঢুকানোর সময় বলে দিতে হয় ডলার হিসেবে জমা হবে নাকি টাকা হিসেবে। ডলার হিসেবে টাকা ঢুকালে পরে ঐ টাকা যে কোন দেশ থেকেই তোলা যাবে। আমি পরেরদিন গিয়ে একটি কার্ডের জন্য এপ্লাই করলাম। সাথে সাথেই কার্ড দিয়ে দিয়েছিল। অপেক্ষা করলে নিজের নাম সহ পাওয়া যেত। ইচ্ছে করেই তা করিনি।
আপওয়ার্কে ঢুকে দেখি কিছু ডলার জমা হয়ে আছে। পেওনিয়ারে ট্রান্সফার করে নিলাম সেগুলো। ৩৭০ ডলারের মত ছিল। আল-আমিন ভাইকে বলার পর উনি ১০০ ডলার পাঠিয়েছে। skyscanner.net এ সার্চ করে দেখে নিলাম কোন এয়ারলাইন্সে কম ফেয়ার কম আসে। দেখলাম যাওয়ার সময় Scoot এয়ারলাইন্স সাশ্রয়ী। আসার সময় এয়ার এশিয়া। পেওনিয়ার দিয়ে পেমেন্ট দিয়ে দিলাম। সব কিছু নিজে নিজে। একটু কিছু ভুল হলে সব গড়বড় হয়ে যাবে। জানি না সব ঠিক মত হবে কিনা, আল্লাহ ভালো জানেন। ১২ তারিখে ফ্লাইট। ইনশাহ আল্লাহ ১৩ তারিখে বালি পৌছাবো। Scoot এয়ারলাইন্স টিকেট প্রসেসিং এর জন্য প্রায় ১৪ ডলার কেটেছে। আর এয়ার এশিয়া কেটেছে ৪ ডলার মাত্র। এই প্রসেসিং ফি বুকিং এর সময় দেখায় না।
এর আগে একা একা দার্জিলিং ভ্রমণ করতে যেয়ে কত যে ভুল করেছি। ফ্লাইট মিস করেছি, ট্রেন মিস করেছি। এভাবেই ঐ ট্যুরটা শেষ হয়েছে, যদিও অনেক গুলো ভালো নিয়ে। এবার জানি না কিভাবে কি হবে। অনেক এক্সাইটমেন্ট কাজ করছিল। আজ মাত্র ৮ তারিখ। ১২ তারিখ আসতে এখনো ৩ দিন। টিকেট কিনে, হোটেল বুক করে বাসায় বসে অপেক্ষা করা একটু কষ্টকর বটে। আমি বাংলাদেশে থাকলে আমার মন ততক্ষণে বালিতে।
হোটেলের জন্য Airbnb এ সার্চ দিলাম। ১২ ডলারের মধ্যে অনেক হোটেল পেয়ে গেলাম। কিন্তু দেখা গেলো ঐ গুলো মূল স্পট থেকে একটু দূরে দূরে। ১৫ ডলারের মধ্যেও অনেক হোটেল। Kuta EchoStay কনফার্ম করলাম। পেওনিয়ার দিয়ে পে করেছি এখানেও। তিন রাতের জন্য প্রসেসিং ফি সহ প্রায় ৫০ ডলার।
এয়ার টিকেট এবং হোটেল মিলিয়ে টাকায় প্রায় ৩১ হাজারের মত লেগেছে। Dhaka to Bali $198, Bali to Dhaka $130। হোটেল $50। টিকেট কাটার আগে এশিয়ান হলিডেজ এ গিয়েছিলাম প্যাকেজের জন্য। ট্যুর বা ট্রাভেল লিখে গুগলে একটু সার্চ করলেই ফেসবুক আপনার হোম পেইজ বিভিন্ন স্পন্সর পোস্ট দিয়ে ভরিয়ে ফেলবে। আমি ওদের এড দেখেই গিয়েছিলাম। এয়ার টিকেট এবং হোটেল প্রায় ৫০ হাজার টাকা। যখন শুনল আমি একা যাবো, তখন বলল প্রাইস আরো বাড়বে, কারণ হোটেল রুম গুলো দুইজনের জন্য। পরে এসে নিজে নিজেই সব করলাম। যদিও ওদের যে সব হোটেলের সাথে এফিলিয়েট, সেগুলো 3 Star মানের যা ৩০-৩৫ ডলারে পাওয়া যায়।
বালি সম্পর্কে একটু একটু জানতাম। ছোট্ট একটা দ্বীপ। ভাবলাম ৩ দিনই যথেষ্ট। ৪ দিন তিন রাত বলা যায়। পরে বিভিন্ন ব্লগ পড়ে জানতে পারলাম এখানে আসলে ৭-৮ দিন ঘুরার মত স্পট এবং এক্টিভিটিজ রয়েছে। যাই হোক, আগে গিয়ে দেখি। ভালো লাগলে ইনশাহ আল্লাহ হয়তো আবার কখনো বেশি সময় নিয়ে যাওয়া যাবে।
১১ তারিখ রাতে বসে বসে প্ল্যান করলাম। আগেও একটু একটু করে তথ্য গুলো সংগ্রহ করে রেখেছিলাম। ম্যাপে দেখে কোথায় কত সময়ের মধ্যে যাওয়া যাবে, তার আশে পাশে কি কি দেখা যাবে এসব আরকি, যেন সময়ের সঠিক ব্যবহার করা যায়।
১০ তারিখের দিকে Abdullah Al Mahmud ভাই বলল উনিও যাবে। আমি বললাম টিকেট কেটে নেন। উনি টিকেট কেটে নিলো।
ফ্লাইট
ফ্লাইট ছিল সকাল ৯টায়। এয়ারপোর্ট পোঁছেছি সাড়ে ছয়টার দিকে। এরপর বোর্ডিং পাস নিলাম। স্কুট এয়ারলাইন্স সলো এবং বাজেট ট্রাভেলিং এর জন্য দারুণ। বাড়তি কোন কিছু হলেই বাড়তি টাকা লাগে। আমার সামনে এক ভদ্রলোক একটা ট্রলি নিয়ে এসেছে। ট্রলি থাকলে তা আগেই বলে দিতে হয়, টিকেট কেনার সময়। তার জন্য আলাদা ফি দিতে হয়। কিন্তু ঐ ভদ্রলোককে যে টিকেট কিনে দিয়েছে, সে জানিয়ে দেয় নি। পরে উনাকে এক্সট্রা ৪ হাজার টাকা দিতে হয়েছে ট্রলিটার জন্য। ব্যাকপ্যাকে ১০ কেজি পর্যন্ত ফ্রিতে ক্যারি করা যায়।
বোডিং পাস নেওয়ার পর ইমিগ্রেশন। ইমিগ্রেশনের জন্য ছোট্ট একটা ফরম পূরণ করতে হয়। এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে ইমিগ্রেশন পাস করতে হয়। অনেক গুলো এয়ার, অনেক দেশের যাত্রী। সবাই লাইনে দাঁড়ানো। আমি পাসপোর্ট, ইমিগ্রেশন ফরম এবং বোর্ড পাস দেওয়ার পর দেখা গেলো বাংলাদেশ বিমানের একটা ফ্লাইটের সময় হয়েছে। তাই ওদেরকে আগে দেওয়ার জন্য বলল। আমার কাগজ পত্র ফিরিয়ে দিয়ে অপেক্ষা করতে বলল।
আমি কয়েক দিন আগে নতুন পাসপোর্ট করেছি। আগেরটা মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে। ইমিগ্রেশন অফিসার জিজ্ঞেস করল কোথায় যাবো, রিটার্ণ টিকেট করছি কিনা, হোটেল বুকিং করছি কিনা। দেখাতে বলায় মোবাইলে দেখালাম। এরপর সীল মেরে পাসপোর্ট ও বোর্ডিং পাস পেরত দিল। আগের পাসপোর্ট ও সাথে রেখেছিলাম যদি দরকার পড়ে, এ চিন্তা করে। এবং এয়ার টিকেট ও হোটেল রিজার্ভেশনও প্রিন্ট করে রেখেছিলাম। যদিও এসবের কিছুই দরকার পড়েনি।
ইমিগ্রেশন শেষে এশার নামাজ পড়ে নিলাম। এরপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে বোর্ডিং এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। বোর্ডিং পার হওয়ার সিকিউরিটির এখ প্যান্ট এর বেল্টও খুলতে হলো। এসব পার হয়ে বিমানে।
স্কুট এয়ারলাইন্স এতই বাজেট যে এরা কোন স্ন্যাক্সও প্রোভাইড করে না যাত্রার সময়। কিছু খেতে হলে এখান থেকে কিনে তারপর খেতে হবে। মোটামুটী অনেক প্রাইস দিয়েই কিনতে হবে। ১০ ঘন্টার মত জার্নি। ক্ষুদা লাগতেই পারে চিন্তা করে আমি কিছু চকলেট কিনে নিয়েছিলাম। ট্রাভেলিং এর জন্য পারফেক্ট।
সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্টে এসে নেমেছি ৩টার দিকে। চার ঘন্টার ফ্লাইট ছিল। এটা হচ্ছে সিঙ্গাপুরের লোকাল টাইম। বাংলাদেশ থেকে দুই ঘন্টা বেশি এখানে।
এই এয়ারপোর্টের প্রায় সব কিছুই অটোমেটেড। টার্মিনাল ২ এ বের হয়েছি আমরা। এয়ারপোর্টে নেমে সবার আগে কি করেছি? ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড খুঁজে বের করেছি। এয়ারপোর্টে ফ্রি ইন্টারনেট রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বুথ আছে। ঐখানে আপনার পাসপোর্ট স্ক্যান করলে একটা পাসওয়ার্ড দিবে। এরপর ইন্টারনেট ব্যবহার করা শুরু করতে পারবেন। ভালোই স্পিড।
দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে খাবার খাওয়া। অনেক গুলো ফুড স্টল আছে। একটা ফুড ভিলেজও রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন চেইন ফুড শপ রয়েছে। সাবওয়েতে আমরা অর্ডার করতে গেলে জিজ্ঞেস করল আমরা মুসলিম কিনা। হ্যা বলার পরে বলল উনারা হালাল ফুড সার্ভ করে না। পাশেই ম্যাকডোনাল্ড দেখিয়ে দিল। ম্যাকডোনাল্ড থেকে বার্গার, ফ্রাই, ড্রিঙ্কস নিয়ে খেয়ে নিলাম। এখানে দারুণ সব কফি স্টল রয়েছে। কফিও নিয়ে নিলাম একটা। এখানে অনেক গুলো জায়গায় ফুট ম্যাসেজ নেওয়ার ব্যবস্তা রয়েছে। অটোমেটেড এবং ফ্রি। কিছুক্ষণ ফুট ম্যাসেজ নিলাম।
এরপর ঘুরতে বের হলাম। মোট চারটা টার্মিনাল। এক একটা টার্মিনাল অনেক বড়। দুই নাম্বার টার্মিনাল থেকে গেলাম ৩ নং টার্মিনালে। ৩নং টার্মিনালে যাওয়ার পর নামাজের জায়গা চোখে পড়ল। ফজরেরও সময় হয়েছে। নামাজ পড়ে নিলাম। নামাজের রুম আর মেডিটেশন রুম একটাই। দুই একজনকে দেখলাম মেডিটেশন করতে। তিন নং টার্মিনাল থেকে গেলাম এক নং টার্মিনালে। টার্মিনাল গুলো একটু দূরে দূরে। মাঝখান দিয়ে আবার শহরের রাস্তাও রয়েছে। আর একটা টার্মিনাল থেকে আরেকটাতে যাওয়ার জন্য স্কাই ট্রেন রয়েছে। অটোমেটেড। প্রতি তিন মিনিট পর পর একটা থেকে আরেকটাতে যাওয়া আসা করে।
আমাদের ট্রানজিট টাইম হচ্ছে ৪ ঘন্টা। ঘুরাঘুরি করতে করতে সময় গুলো পার হয়ে গেলো। ফিরে আসলাম টার্মিনাল দুই এ।
সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্টে সব দেশেরই মানুষের সাথে দেখা মিলবে। বৈচিত্রতা। মনে হবে পৃথিবীটা আসলেই অনেক বৈচিত্রময়। ট্রানজিটে অনেকেই এখানে অবস্থান করে। কেউ ঘুমায়, কেউ কাজ করে, কেউ আড্ডা দেয়, যে যা চায় তাই করার সুযোগ রয়েছে এখানে। সব জাতির কথা চিন্তা করেই ডিজাইন করা এয়ারপোর্টটি।
বালিতে প্রথম দিন
বালিতে ল্যান্ড করেছি লোকাল টাইম সাড়ে নয়টার দিকে। ইমিগ্রেশন এত সহজ মনে হয় না আর কোন দেশে হয়। আমরা গেলাম, ইমিগ্রেশন অফিসারকে পাসপোর্ট দিলাম, কয়দিন থাকব বললাম, ফ্লাইট নাম্বার বললাম। পাসপোর্টে ভিসা সীল মেরে দিয়ে দিল। শেষ!
এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়েছি আশে পাশে দেখব বলে। এছাড়া আমি হোটেলে বলে রেখেছিলাম ১২টায় চেকইন করব। ভাবলাম চারপাশ দেখে যাই। বের হওয়ার পর এখানের স্কুটি চালকেরা বা ট্যাক্সি চালকেরা জিজ্ঞেস করে ট্যাক্সি বা স্কুটি লাগবে কিনা। আমরা যখন বলি চারপাশ ঘুরে দেখব, তখন নিজেরাই পথ দেখিয়ে দেয়। পরে ভাবলাম স্কুটি যেহেতু এত কম টাকায় পৌছে দিতে চাচ্ছে, আবদুল্ললাহ ভাইকে বললাম চলেন যাই। দুইজন দুইটা স্কুটির পেছনে উঠে পড়লাম। ওরা গুগল ম্যাপ দেখে দেখে হোটেলের সামনে এনে রাখল। হোটেল প্রায় সাড়ে চার কিলো দূরে। দুইটা স্কুটির জন্য নিয়েছে 34k। যা প্রায় আড়াই ডলারের মত। একা একা আসলে মনে হয় না ট্যাক্সির দরকার আছে। এয়ারপোর্ট থেকে বের হলেই স্কুটি পাওয়া যাবে। অনলাইনে অনেকেই বলল দেখলাম ট্যাক্সি ওয়ালারা বেশি চার্জ করে। যদিও ফিক্সড প্রাইসের ট্যাক্সিও আছে এখানে, যেগুলো মিটারে চলে।
হোটেলে পৌছে দেওয়ার পর স্কুটি চালক বলল তাদের স্কুটি ভাড়া পাওয়া যায়। আমার যেহেতু আগেই প্ল্যান ছিল স্কুটি ভাড়া নেওয়ার, তাই রাজি হলাম স্কুটি দেখার। স্কুটি যেখানে ভাড়া দেয়, সেখানে নিয়ে গেলো। আমরা পছন্দ করে তিনদিনের জন্য একটা ঠিক করে নিলাম। 60k/Day। তিনদিনের জন্য 180k, যা মাত্র ১৩ ডলারের মত। স্কুটি সব জায়গাতেই ভাড়া পাওয়া যাবে। আরো কম টাকাতেও ভাড়া পাওয়া যাবে। একটু পুরাতন হলে 40k/Date তেও পাওয়া যাওয়া কথা। বাইক অথবা গাড়িও এভাবে ভাড়া করা যায়।
স্কুটি এর আগে আমি কখনো চালাই নি। বাইক যেহেতু চালাতে পারি, এটাও সহজে চালাতে পারব ভেবেছি। চাবি ঢুকিয়ে স্টার্ট দিতে গিয়ে দেখি স্টার্ট নিচ্ছে না। কারণ? স্ট্যান্ড উঠানো হয়নি। স্কুটি চালানো আসলেই অনেক সহজ। স্টার্ট দেওয়ার পর এক্সিলারেট করলেই চলতে শুরু করবে।
আমি এবং আমার স্কুটি
স্কুটি ভাড়া করার পরের কাজ হচ্ছে সিম কেনা। সিম কিনে নিলাম 150k দিয়ে। সিমের দাম সে গুলনায় একটু বেশিই মনে হলো। এরপর একটা লোকাল রেস্টুরেন্টে ঢুকে খাওয়া দাওয়া করে নিলাম। ভাত, চিকেন বার-বি-কিউ, ডিম, সবজি, ফ্রেশ জুস ইত্যাদি। অনেক গুলো আইটেম থেকে যেটা যেটা খাবো, তা দেখিয়ে দেওয়ার পর ওরা সার্ভ করে দিল। খেতে মোটামুটি লেগেছে। প্রাইসের কথা চিন্তা করলে ভালো খাবারই বলা যায়। 76k বিল এসেছিল দুইজনের যা প্রায় সাড়ে ৫ ডলারের মত।
খাওয়া দাওয়া করে হোটেলে ফিরে রুমে ঢুকলাম। ব্যাক প্যাক রুমে রেখে এরপর স্কুটি নিয়ে বের হয়ে পড়লাম। প্রথম গন্তব্য বীচ। কুটা বীচ। হোটেলের একেবারে কাছে। ঐখানে গিয়ে এত জগন্য বীচ দেখে চিন্তা করলাম এটি দেখতে মানুষ বালি আসে? এত পলেথিন, প্লাস্টিকের বোতোল, এত ময়লা। যদিও সেগুলো ক্লিন করা হচ্ছে। তারপরও এমন কিছু দেখে খুবি হতাশ হলাম। বেশিক্ষণ না থেকে কফিশফ খুঁজলাম। আগের রাতে ঘুমানো হয়নি একটুও। বিমানে ঘুমানোর চেষ্টা করেছি অনেক, লাভ হয় নি। কফি খেয়ে ঘুম তাড়িয়ে রাখতে হবে। কাছা কাছি ছিল Crum & Coaster। ঐখানে গিয়ে কফি খেয়ে নিলাম।
কফি খেয়ে প্ল্যান করলাম নুসা দুয়া যাবো। নুসা দুয়া যাওয়ার পথে একটা ব্রিজ পড়ে। সমুদ্রের উপর দিয়ে। বিমান থেকেই ঐ ব্রিজটা দেখা যায়। অনেক বিশাল ব্রিজ। ব্রিজে মিনিমাম স্পিড ৬০ রাখতে হয়। সমুদ্রের মাঝখান দিয়ে, এর মানেই হচ্ছে দারুণ বাতাস। অনেক ভালো লাগার মত। সমুদ্রের উপর দিয়ে স্কুটি চালাতে কি যে ভাল লাগছিল। ১০০+ স্পিড তোলা এখানে খুবি সহজ। যদিও স্পিড লিমিট ৮০।
ব্রিজের উপর দিয়ে কিছুদূর পর গিয়ে দেখি সব গুলো স্কুটিওয়ালা দাড়িয়ে রেইন কোট বের করছে। আরো কিছুদূর যাওয়ার পর দেখি বৃষ্টি। একপাশে অনেক বেশি রোদ। একপাশে বৃষ্টি। সুন্দর না? স্কুটির সিটের নিচে ব্যাগ রেখে ভিজতে ভিজতেই চালাতে লাগলাম। অন্যরকম ভালো লাগা। যাওয়ার পথে কিছুদূর রোদ, একটু পরেই আবার বৃষ্টি। আবার কিছুদূর পরেই আবার রোদ। অদ্ভুত একটা আবহাওয়া। এক এক টা জায়গায় এক এক রকম আবহাওয়া। কিছুক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজি, কিছুক্ষণ পর রোদে সব শুকিয়ে যায় এভাবেই চলছিল।
নুসা দুয়া গিয়ে দেখলাম সত্যিকারের বীচ কেমন সুন্দর হতে পারে। বালি গুলো সাদা। পানি গুলো অনেক নীল। আবদুলল্লাহ ভাই গোসল করতে নেমে গেলো। আমি ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। মুভি গুলোতে যেমন বীচ দেখায়, ঠিক তেমন। ঐরকম মানুষও আছে আরকি। এই পথম বালি ভালো লেগে উঠল।
- Nulled
- Tech
- Emploi
- Hacking Course
- Art
- Causes
- Crafts
- Dance
- Drinks
- Film
- Fitness
- Food
- Jeux
- Gardening
- Health
- Domicile
- Literature
- Music
- Networking
- Autre
- Party
- Religion
- Shopping
- Sports
- Theater
- Wellness