Προωθημένο

সাইন্স ফিকশন - এন্টিবায়োটিক

0
17

জানো, আলেকজেন্ডার ফ্লেমিং, যে না এন্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেছিল, তিনি ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন, এই পেনিসিলিন আজ লাখ লাখ মানুষকে সুস্থ করে তুলবে। কিন্তু এক দিন ঠিকই কোটি কোটি মানুষ মারা যাবে।

মানব সভ্যতা আজ অনেক এগিয়ে গিয়েছে। সব কিছুই প্রযুক্তি নির্ভর । আজ মানুষদের কিছুই করতে হয় না। সব অটোমেটিক, রোবটিক সিস্টেমে সম্পুর্ণ হয়। আর সব কিছু নিয়ন্ত্রন করে একটি কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্ক। কত গুলো বিশাল বিশাল কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সাহায্যে যে নেটওয়ার্কটি তৈরি করা হয়েছিল। যে নেটওয়ার্কটি সব কিছু দেখা শুনার পাশরপাশি, গবেষণা, নিজেকে আপডেট সহ মানব সভ্যতার জন্য দরকারী সব কিছুই করে।

এক সময় মানুষগুলো অনেক বছর বেঁচে থাকতো। এখনো বেঁচে থাকে। মানুষ কত বছর বেঁচে থাকবে, তা আগে থেকেই কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্ক বুঝতে পারে। কারণ একটি মানুষকে সব সময় সুস্থ রাখার জন্য অনেক গুলো সেন্সর মনিটর করে। ঐ সেন্সর গুলো থেকেই ডেটা অ্যানালাইসিস করে বুঝতে পারে সব কিছু। কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্ক এতই শক্তিশালী যে পৃথিবীর সকল মানুষকে মনিটর করার দ্বায়িত্ব নির্ভুল ভাবে পালণ কর। কেউ মারা যাওয়ার কয়েক ঘন্টা আগেই কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্ক তাকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত করা শুরু করে। এবং তার মস্তিষ্ক নিয়ে সাইবর্গ তৈরি করে। যেগুলো পরে মঙ্গল গ্রহে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সাইবর্গ গুলো মঙ্গল গ্রহে গিয়ে আজীবন বেঁচে থাকে।

কিন্তু গত কয়েক বছর মানুষ অতি দ্রুত মারা যাওয়া শুরু করেছে। সম্পুর্ণ সুস্থ এক জন মানুষ ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত হয়ে সহজেই মারা যাচ্ছে। পৃথিবীর কোন ঔষধেই কাজ করছে না। এই মারা যাওয়ার হার দিন দিন বাড়া শুরু করতে লাগল। কারণ ব্যাকটেরিয়া গুলো ছৌঁয়াছে ছিল।

কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্ক কোন সমাধান খুজে পাচ্ছে না। তার শক্তির বেশির ভাগই এ সমস্যা সমাধান করার পেছনে ব্যয় করতে লাগল। কিন্তু কোন ফলাফলই কাজ করছিলনা।

এর পর মানুষ গুলোকে নিয়ে ছোট ছোট কলোনি তৈরি করল কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্ক। যে সব মানুষে ইনফেকশন নয় নি, তাদের ভিন্ন ভিন্ন দলে ভাগ করে এই কলোনি গুলোতে থাকতে দিল। মানুষ আগে বাহিরে বের হতে পারত, এখন সবাই সব কিছু কলোনী গুলোর ভেতরেই করতে হয়। কলোনী গুলো ছিল এয়ারটাইট। বাহির থেকে কোন বাতাস ঢুকার সিস্টেম ছিল না। বিশাল বিশাল বায়ু ছাকনী দিয়ে বায়ু গুলোকে পরিশুদ্ধ করে তারপর কলোনী গুলোতে সরবরাহ করা হতো।

এক কলোনীর মানুষ আরেক কলনীর মানুষের সাথে শুধু মাত্র ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারত। মাঝে মাঝে বিশেষ যান ব্যবহার করে বিশেষ দরকারে যাওয়া আশা করত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়।

সমস্যা হচ্ছিল যখন এক কলনির কেউ কোন ভাবে ইনফেক্টেড হয়, তাহলে ঐ কলোনির সবাই মারা যেতো। কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের কিছুই করার ছিল না এই নিয়ে।

দিন দিন ভিন্ন ভিন্ন কলোনী এভাবে ইনফেক্টেড হতো, আর সকল মানুষ আস্তে আস্তে মারা যেতো। ঐ মানুষ গুলো দিয়ে সাইবর্গ ও তৈরি করা হতো না। কোন কারনে যদি ইনফেক্টেড মস্তিষ্ক দিয়ে সাইবর্গ তৈরি করা হয়, এবং মঙ্গলে সাইবর্গটি পাঠানো হয়, তাহলে তো মহাবিশ্ব থেকে মানুষের অস্তিত বিলীন হয়ে যাবে। তাই।

এক সময় মানুষের রোগ হতো কম। রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার প্রকার কম ছিল। কিন্তু দিন দিন ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়তে লাগলো। এভাবে বাড়তে লাগল এন্টিবায়োটিক এর সংখ্যাও। এন্টিবায়োটিক খেলে শরীরের ব্যাকটেরিয়া গুলো মারা যেতো। কিন্তু যদি কোন কারণে কেউ এন্টিবায়োটিক সম্পুর্ণ ডোজ না খেতো, কয়েকটি ব্যাকটেরিয়া থেকে যেতো শরীরে। যদিও সে সুস্থ হয়ে উঠত। ঐ গুটি কয়েক ব্যাকটেরিয়া তখন নিজেদের ঐ এন্টিবায়োটিক এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করে নিত। এবং পরে বংশ বৃদ্ধি শুরু করত। এক সময় আবার ঐ মানুষটি অসুস্থ হয়ে পড়ত। কিন্তু পরের বার আর আগের এন্টিবায়োটিক কাজ করত না।

এভাবে দিন দিন ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকটেরিয়া উত্তপন্ন হতে লাগলো এবং দিন দিন নতুন নতুন এন্টিবায়োটিক তৈরি হতে লাগল। কিন্তু বর্তমান যে ব্যাকটেরিয়াটি মানুষকে আক্রমন করেছে, এ ব্যাকটেরিয়া কোন এন্টিবায়োটিক দিয়েই ধংশ হচ্ছে না।

এক সময় আমাদের কলোনীও আক্রান্ত হলো। একে একে মানুষ গুলো মারা যেতে লাগলো। এক সময় আমিও অসুস্থ হয়ে পড়লাম। দিন দিন সারা শরীর ব্যাকটেরিয়ার আক্রমনে অসাড় হতে লাগলো। সব কিছু অন্ধকার হতে লাগলো। এক সময় হাঁটা চলাচল ও করতে পারলাম না। বিছানায় পড়ে থাকতাম। দিন গুনতে লাগলাম কখন মারা যাবো। শেষ দিকে কি সব দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলাম। কখন জেগে থাকি, কখন ঘুমে থাকি, তাও বুঝতাম না। আমি কি বেঁচে আছি? তাও জানি না।

কলোনীর সকল মানুষ মারা গেলে কলোনী পরিষ্কার করার জন্য রোবট গুলো আসে। এবং কলোনী পরিষ্কার করে এবং মৃত বডি গুলোকে কবর দেয়। এক জন মানুষ এক জাগায় পড়ে থাকে।

একটি মানুষ বিচানায় পড়ে আছে। একটি রোবট বলল, এর হৃদ-স্পন্দন তো এখনো রয়েছে। একটি রোবট আরেকটিকে জিজ্ঞেস করল কত দিন আগেই মারা যাওয়ার কথা, কিন্তু কিভাবে বেঁচে আছে?

তারা ঐ অসাড় দেহটাকে ল্যাবে নিয়ে গেলো, দেখলো ব্যাকটেরিয়া গুলো ঐ দেহতে বাঁচতে পারছে না। কি অদ্ভুত ব্যাপার। অটোমেটিক তৈরি হয়েছে এন্টিবায়োটিক ঐ শরীরে। কি অদ্ভুত, কি অদ্ভুত! মানুষের শরীর এর কাজ কর্ম এখনো কি বুঝার বাকি আছে রোবটের? হয়তো।

ঐ অসাড় শরীর থেকে এন্টিবায়োটিক নিয়ে বিশ্লেষন করে তৈরি করা হলো অনেক প্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিক। ইনফেক্টেড কলোনীর মানুষ গুলো পেলো নতুন প্রাণ। এক সময় মানুষ গুলো আবার কলোনী ছেড়ে বের হলো মুক্ত বাতাসে।

Αναζήτηση
Κατηγορίες
Διαβάζω περισσότερα
Hacking Course
এইচএসসি রেজাল্ট ২০২৬ দেখার নিয়ম: অনলাইন ও SMS-এ ফলাফল দেখবেন যেভাবে
এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি চিন্তা থাকে রেজাল্ট নিয়ে। রেজাল্ট...
από Nettumi 2026-09-25 16:15:15 0 25
Tech
বিটকয়েন কী তার সুপেরিয়র পার্চেসিং পাওয়ার এর মাধ্যমে বিপ্লব ঘটাবে? | Techtunes | টেকটিউনস
jQuery দিয়ে লিখার পেছনে চলমান ছবি মেহেদী.কম.বিডি
από Nettumi 2026-09-25 03:50:54 0 42
Nulled
সরকারি ছুটির তালিকা | ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা PDF
3.7/5 - (10 votes)সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৬ খুঁজছেন? তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য। এখানে ২০২৬ সালের...
από Nettumi 2026-09-18 09:27:12 0 43
Tech
টিকটক একাউন্ট খোলার নিয়ম - Banglatech24.com
২০২১ সালে সবচেয়ে অধিক ভিজিট হওয়া ওয়েবসাইট ছিলো টিকটক। সার্চ জায়ান্ট গুগলকে রীতিমতো পেছনে ফেলে...
από Nettumi 2026-09-25 10:18:36 0 42
Nulled
Google এর Storage কী সত্যিই ফুরিয়ে যাচ্ছে? ফ্রি সার্ভিসের যুগের শেষ কি কাছেই? | Techtunes | টেকটিউনস
আপনার স্বপ্নের বাড়িটাকে আরো স্মার্ট করতে চান? তাহলে এই টিউনটি আপনার জন্য! Mostafizur Rahman
από Nettumi 2026-09-23 17:11:49 0 37
‎ ‎ ‎
Nettumi https://nettumi.com